গত সপ্তাহেই খুন হন রাজ্যের দুই কাউন্সিলর। কিন্তু এরপরও বাংলা কমেনি হত্যালীলা। গতকাল, সোমবারই খুন হয়েছেন আরও এক নেতা। বীরভূমের রামপুরহাটের তৃণমূল নেতা তথা উপপ্রধান ভাদু শেখকে খুন জন্য গতকাল রামপুরহাটের জনবহুল এলাকায় একের পর এক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রামপুরহাট বগটুই মোড়ের কাছে বসেছিলেন ভাদু শেখ। সেখানেই কয়েকজন দুষ্কৃতী তার ওপর বোমা ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
তবে কী কারণে তাঁর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। তা এখনও স্পষ্ট নয়।। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে নাকি অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের টহলদারি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মোটর সাইকেলে চেপে চার-পাঁচ জন গ্রামে চড়াও হয়। দেদার ভাঙচুর চালায় তারা। তারপর একে একে কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর জেরে পুড়ে সাত থেকে ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত তৃণমূল নেতার অনুগামীদের দল রাতভর তাণ্ডব চালায় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ জানায় যে সোমবার রাতেই তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয় আরও ন’টি দেহ। একটি বাড়িতে একটি ঘরের মধ্যে থেকেই থেকে সাত জনের দেহ উদ্ধার হয়। আগুনে ঝলসে মৃতদেহগুলি প্রায় মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে।
এই ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবী। শর্ট সার্কিটের জেরে টিভি সেটে বিস্ফোরণ হয়ে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, আবার অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে। অনুব্রতর দাবী, ১২ জন নয়, তাঁর কাছে ছ’জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে। তিন-চারটি বাড়িতে আগুন ধরে যায় বলে দাবী করেন তিনি। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুব্রত বলেন, “১০টি নয়, তিন-চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পৌঁছয় দমকলবাহিনী। আগুন নেভানো হয়। পুলিশ পিকেটিংও ছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক”।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে যে অশান্তি এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে এলাকায় পুলিশ ঢুকতে পারছে না। জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে রামপুরহাট বগটুই গ্রামে সিআইডি যাচ্ছে তদন্তের জন্য। পুলিশও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেকর্ড করে প্রাথমিক তদন্তে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে।





