সম্প্রতি মোদী সরকার ২.০ ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার এক বছর পূরণ করল। আর এই বর্ষপূর্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মুম্বইএ এক ইংরাজি নিউজ চ্যানেলের উপস্থাপককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মমতার ইচ্ছা পূরণেই সরকার গড়বে বিজেপি।’
আগের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শাহ জানান, ‘২০১৯শের লোকসভা নির্বাচনের যখন বলেছিলাম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ২০টি আসন পাবে তখন আমার কথায় কেউ গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ফল বেরনোর পর কি দেখা গেল? আমাদের ১৮ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এছাড়া আরও ৪-৫ জন প্রার্থী সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।’
প্রসঙ্গত,কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে করোনা ও আমফান এই দ্বৈত সংকটের জেরে কেন্দ্রের তরফে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে ছিলেন, অমিত শাহ।সেইসময়ই নবান্নে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথোপকথনের কিছু অংশ উধৃত করে বলেন, ‘আমি অমিত শাহকে বলেছিলাম, আপনাদের যদি মনে হয় আমরা করোনা পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ তাহলে আপনারা দায়িত্ব নিয়ে নিন।’ এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ধন্যবাদের সুরে যোগ করেন, ‘তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে উনি আমাকে বলেন, তেমন কোনও ব্যাপার নয়। নির্বাচিত সরকারকে কী করে ফেলে দেব বলুন?’
২০২১ এই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট।সেভাবে বলতে গেলে নির্বাচনের আর ১ বছরও অবশিষ্ট নেই। এ বছর আচমকা করোনা পরিস্থিতির চলতে বন্ধ হয়ে গেছে পুরসভা নির্বাচন। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপি যে কতটা প্রভাব ফেলেছে তা বোঝার সব সুযোগই হাতছাড়া হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সোমবারই নতুন রাজ্য কমিটির ঘোষণা করেছে বিজেপি। আর তাতে স্পষ্ট, ২০২১-এর নির্বাচনে কোমর বেঁধে নামতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। এবারে কোনোভাবেই হার বরদাস্ত করবে না তারা।
এদিন অমিত শাহের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়েন। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, করোনা পরিস্থিতিতেও বিজেপির কাছে রাজনীতিই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ওরা রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের রাজনীতির তোয়াক্কা করেন না। তিনি আজও মানুষের পাশে রয়েছেন।’





