বিজেপি করার ‘অপরাধে’ খুনের হুমকি তৃণমূলের, ফেসবুক লাইভে কুণালের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আত্মঘাতী বিজেপি নেতা

১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটা ফেসবুক লাইভ। লাইভে নানান অভিযোগ জানিয়ে জীবনের চরম সিদ্ধান্ত নিলেন চুঁচুড়ার কেওটা মিলিটারি কলোনির বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী অভিষেক চৌধুরী। ভোর রাতে ফেসবুকে লাইভ করে কাঁদতে কাঁদতে অভিষেক জানান কে তিনি নিজেকে শেষ করে দেবেন। ওই বিজেপি কর্মী জানান যে তিনি যে বিজেপি করেন, এটাই তাঁর অপরাধ। আর এই কারণেই তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, তাঁর পরিবারকেও শেষ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও দেখা যাচ্ছে যে একহাতে মোবাইল ধরে অপর হাতে গামছায় ফাঁস লাগান অভিষেক। তারপর তিনি বলেন, “এই কুণাল সরকার ডাইরেক্ট আমাকে বলেছে গুলি করে দেব। আমার বউ চাকরি করে। আমার উপর মহলে অনেক যোগাযোগ। তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। আমার বউ কলকাতা কর্পোরেশনে চাকরি করে। বড়বড় মন্ত্রী আছে। আমরা কজন ক্লাবের সেক্রেটারি ওই কুণাল। আমাকে বলছে, তোর দাদা, মা, বাবা সবাইকে ফিনিশ করে দেব। বিজেপি করিস। তোকেও ফিনিশ করে দেব। তুই শুধরে যা। আমি ক্লাবের সাবইকে বলেছিলাম। আমি আজ সুইসাইড করতে বাধ্য হচ্ছি। আমার একটা পা নষ্ট হয়ে গেছে। কত সহ্য করবো? আমি বিজেপি করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। কোনও দিন অন্য কোনও পার্টি করিনি। আজ আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী কুণাল। আমি যে মরে যাচ্ছি তা একমাত্র কুণালের জন্যই। আমাকে বলছে তুই সরে যা, তুই চেপে যা। নাহলে তোর বাবাকে মাকে সবাইকে মেরে দেব। আমার মা বাবা অসুস্থ”।

রাতে কেউ ওই লাইভ দেখেনি। সকালে সেই ভিডিও দেখামাত্র বন্ধুবান্ধবরা অভিষেকের বাড়িতে যান। রাতে ছেলে কী করেছেন বাড়ির লোকেরাও জানতেন না। সবাই ভেবেছিলেন ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু দরজা ভাঙতেই দেখা যায়, সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন তিনি। উদ্ধার করে ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ফেসবুক লাইভে যে কুণাল সরকারের নামে অভিযোগ করেছেন অভিষেক, তিনি হলেন স্থানীয় ক্লাবের সম্পাদক। এই ঘটনায় তিনি কিছু বলতে চান নি। ওই ক্লাবের সদস্য পঙ্কজ দাস বলেন, কুণাল অত্যন্ত ভাল ছেলে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। অভিষেক কী অভিযোগ করেছেন জানি না। আমাদের ক্লাবের সঙ্গে অভিষেকের দাদাও যুক্ত”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ বলেন, “অভিষেক হুগলি মণ্ডলের দীর্ঘদিনের কর্মী ছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি ওঁকে কয়েকদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আবেদন করব, ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে”।

ফেসবুক লাইভে অভিষেক চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছেও বিচার চেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম যেকোনও দল করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ বিজেপি করলে তাঁকে যদি কেউ হুমকি দিয়ে থাকে, সেটা খুবই লজ্জাজনক”।

RELATED Articles