এবার স্কুলের মাঠ থেকেই উদ্ধার হল তাজা বোমা। আজ, সোমবার সাতসকালে ব্যান্ডেলের একটি প্রাথমিক স্কুলের মাঠে বোমা পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্কুল চত্বরে বোমা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় বেশ শোরগোল পড়ে যায় এলাকা জুড়ে। পুলিশ এসে উদ্ধার করে বোমা।
জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেলের নলডাঙা নারায়ণপুর প্রাথমিক স্কুলের মাঠে এদিন সকালে তিনটি বোমা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে সকলের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ তড়িঘড়ি এসে বোমাগুলি উদ্ধার করে জলভর্তি বালতিতে ডুবিয়ে সরিয়ে দেয়। স্কুলের মাঠে কে বা কারা এভাবে বোমা ফেলে রেখে গেল, তা এখনও অবশ্য জানা যায়নি।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “সকালে উঠে দেখি স্কুলের মাঠের সামনে পড়ে রয়েছে বোমা। স্কুলের মাঠে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলা করে সেখানে বোমা পড়ে থাকতে দেখে চমকে যাই। বাচ্চারা বল ভেবে খেলতে গেলেই মারাত্মক বিপদ ঘটে যেত”।
স্কুলের মাঠে এভাবে বোমা পড়ে থাকার ঘটনায় বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি বলেন, “বোমের রাজনীতি আমদানি করেছে বিজেপি আর লকেট। স্কুলের সামনে দু-একটা বোমা পাওয়া গেছে। তার সত্যতা আমি জানি না। ২০১১ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০১৯ এর পর এই গুন্ডাবাজি রাজ বিজেপির সাংসদ চালু করেছে। তাদের সংগঠন বলে কিছু নেই। দু-চারগাছা লোক নিয়ে লাফালাফি করে। পঞ্চায়েতে একটি আসনও পাবে না। বোমা দেখিয়ে চমকাচ্ছে”।
বিধায়কের অভিযোগের পাল্টা দিয়ে হুগলির জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, “২০১১ থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আর কোন শিল্প হোক বা না হোক তৃণমূলের নেতৃত্বে একাধিক জায়গায় বোমের কারখানা গড়ে উঠেছে। যেগুলো তারা ভোট আসলেই কাজে লাগায়। কারণ সাধারণ মানুষের রায়ে জিততে পারবে না, বোমা বন্দুকের মাধ্যমে জিততে হবে। সাংসদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। বিধায়কের নেতৃত্বে চুঁচুড়া বিধানসভার একাধিক জায়গায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। পুলিশের নজর নেই”।
অন্যদিকে, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি জানান যে ফাঁকা মাঠে তিনটি বোমা পড়েছিল। কে বা কারা এই বোমা ফেলেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।





