বাংলাদেশের পরিস্থিতির কোনও উন্নতি নেই। বরং দিনদিন পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। হিন্দুদের উপর নির্যাতনের পাশাপাশি হিন্দু মহিলাদের উপর চলছে পাশবিক নির্যাতন। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে করা হচ্ছে অত্যাচার। এবার এপার বাংলায় এসে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে সেই দুর্বিষহ কাহিনী জানালেন বাংলাদেশি বৃদ্ধা।
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার গাজিপুর থানার যথাইসুদপুর গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের জেরে দৃষ্টিশক্তি অনেক দুর্বল হয়েছে। পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্র সন্তান তাঁর। কিন্তু আগস্টে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তাদের কপালে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।
ওই বৃদ্ধা জানান, গত সেপ্টেম্বরে মৌলবাদীরা তাঁর বড় ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে আর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর অন্য এক ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় সে। তাঁরও কোনও হদিশ নেই। পাঁচ মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে খেতে না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
আর কিছুদিন আগেই ছোটো মেয়েটার উপর পাশবিক নির্যাতন করেছে মৌলবাদীরা। নিজের চোখের সামনে মেয়েকে নির্যাতিত হতে দেখেছেন তিনি। এমনকি, অত্যাচারের পর মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় মৌলবাদীরা। পুলিশকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তাঁকে বাটি ছাড়ার হুমকি দেওয়া হত বলে জানান বৃদ্ধা।
তাঁর কথায়, একদিন ভোরে বেশ খানিকটা দূরে জঙ্গলে তাঁর মেয়ের দেহ উদ্ধার হয়। কিন্তু কেউ সৎকারের জন্য সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নি। তাই দেহ ওই জঙ্গলেই পড়ে থাকে। বৃদ্ধাকে মারধর করে বাড়ির বাইরে রাস্তায় ফেলা হয় বলেও অভিযোগ। এরপরই ভারতে এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আসার সিদ্ধান্ত নেন ওই বৃদ্ধা। তগে রাতের অন্ধকার কাঁটাতার পেরোতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের হাতে ধরা পড়ে যান।
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধাকে গতকাল, বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ আদালতে তোলা হয়। পরিবারের কেউ তাঁকে দেখতে আসেনি। রায়গঞ্জ জেলা মূখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই বৃদ্ধাকে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ওই বৃদ্ধা বন্দী হয়ে এপার বাংলায় থাকতেও রাজি, কিন্তু বাংলাদেশে ফিরতে চান না তিনি।





