ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় ঘরছাড়াদের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল কলকাতা হাইকোর্টের তরফে। এছাড়াও আজ, সোমবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দেন যে সিবিআই ও সিটকে তদন্তের নতুন রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আগেই জমা দেয় সিট। তবে তা একমাস হয়ে গিয়েছে। এই কারণে বর্তমানে তদন্ত কতদূর এগোল, তা জানতে নতুন রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এ দিন মামলাকারীদের আইনজীবী ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এই বিষয়ে বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায় জানান যে আগে তদন্ত শেষ হোক, তারপর ক্ষতিপূরণ। মামলাকারী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল অভিযোগ করেন, শ্যামনগরের কিছু বাসিন্দা এখনও বাড়িতে ফিরতে পারছেন না এবং কাজেও যোগ দিতে পারছেন না তারা। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব নির্দেশ দেন যে ঘরছাড়া সমস্ত মানুষদের দীর্ঘ তালিকা জমা দিতে হবে। আগামী ২৩শে ডিসেম্বর ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
এর আগে বৃহত্তর বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছিল এফআইআর করা হলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আজ সিবিআই জানায় যে এখনও পর্যন্ত মোট ৪০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে।
একুশের নির্বাচনের পর বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগই করা হয় বিজেপির তরফে। তারা অভিযোগ করে, বহু ক্ষেত্রে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে। শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনীহা দেখিয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। এর পর গত ১৯ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।
তবে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের কথায়, রাজ্যের অনুমতি না নিয়েই তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয় যে সিবিআইকে তদন্ত করার অনুমতি দেওয়ার বা তদন্ত বন্ধ করার কোনও অধিকার নেই রাজ্য সরকারের।





