অভিযোগ ছিল ভুয়ো খবর সম্প্রচার করেছেন তাঁরা। আর এই কারণেই ‘আরামবাগ টিভি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইউটিউব চ্যানেলের এডিটর সেখ সফিকুল ইসলাম। সেই মামলার শুনানির পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন আরামবাগ টিভির কাউকে গ্রেফতার না করে পুলিশ।
জোড়া মামলা দায়ের হয়েছিল এই ইউটিউব চ্যানেলটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ এবং অন্যটি অপর এক ব্যক্তি। দুই মামলার ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ প্রযোজ্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক।
তবে কী বিষয় নিয়ে এই মামলা?
গত ১৩ই এপ্রিল নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে আরামবাগ টিভি। তাতে তাঁরা দাবি করেন, লকডাউনের মধ্যেই আরামবাগ থানা থেকে ক্লাবগুলিকে চেক বিলি করছে পুলিশ। এরপরই শোরগোল পড়ে যায় আরামবাগ মহকুমা জুড়ে। নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি।
আরামবাগ টিভির এডিটর সেখ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “তারপর থেকে পুলিশ আমাদের ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে, কোথা থেকে ওই খবর পেলাম, কারা ভিডিও ফুটেজ এবং ৫৭টি ক্লাবের তালিকা দিল তা তাদের বলতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ না করাতেই ভুয়ো খবরের মামলা করা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। যদিও যে এফআইআর-এর প্রতিলিপি হাতে এসেছে তাতে পুলিশই স্বীকার করে নিয়েছে ১১-১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আরামবাগ থানা থেকে স্থানীয় ক্লাবগুলোকে চেক দেওয়া হয়েছে।
আরামবাগ টিভির হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। সব্যসাচীবাবু বলেন, “পুলিশের এই মামলা রুজুর ঘটনা সরাসরি বাক স্বাধীনতার উপর আঘাত। এর আগে সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, এখানেও তাই হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারকে আরও একবার শিক্ষা দিল হাইকোর্ট।”
বিরোধীদের বক্তব্য, ওই ক্লাবগুলোর মধ্যে অনেক ভুয়ো রেজিস্ট্রেশনের ক্লাব রয়েছে। বাস্তবে যার কোনও অস্তিত্বই নেই। শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের টাকা লুঠের রাস্তা করে দিতেই লকডাউনের মধ্যে থানা থেকে তড়িঘড়ি চেক বিলি চলছিল। ছ’সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টে।





