২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কম নয়। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মামলা। এবার এই দুর্নীতিকে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করল সিবিআই। আজ, মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এমনই বিস্ফোরক দাবী করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কী জানায় সিবিআই?
সিবিআইয়ের কথায়, “২০১৪ সালের টেট দুর্নীতি আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মত বড়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আমরা সেই পর্দা ফাঁস করতে চাই। ওই দিন আমরা আদালতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করব।
সিবিআইয়ের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “দুর্নীতি যদি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মত বড় হয় তাহলে তা তো ভেঙে দেওয়া উচিত”।
অনেক আগেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০১৪ সালের টেট নিয়ে মামলার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই প্রাথমিক নিয়োগের দুর্নীতিতে নাম জড়ানোতেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল সহ কয়েকজন। টাকার বিনিময়ে কীভাবে চাকরি বিক্রির খেলা চলত, তা নিয়ে বিস্ফোরক সব অভিযোগ সামনে এসেছে।
এমনকি, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও মামলার শুনানিতে কখনও ‘ধেড়ে ইঁদুর’-এর কথা বলেছেন, কখনও আক্ষেপ করেছেন আসল অপরাধী তাঁর জীবনকালে ধরা পড়বে না। এবার সিবিআই তাঁরই এজলাসে বড় দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করার কথা বলল।
তবে ওয়াকিবহাল মহলে সিবিআইয়ের এমন দাবীকে ঘিরে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সিবিআইয়ের এমন বক্তব্যের পিছনে কাকতালীয়ভাবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিধ্বংসী আতঙ্কবাদী আক্রমণে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর সবথেকে উঁচু বিল্ডিং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বহু বছরের সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে দগদগে।
সেই সূত্র ধরেই ২০১৪ সালের এই দুর্নীতি যদি ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের মতই বড় হয়ে থাকে, তাহলে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ১১ সেপ্টেম্বর সিবিআই যে তথ্য পেশ করবে তাতে এই দুর্নীতির মাথা পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে কী না, তা নিয়ে আপাতত চর্চার অন্ত নেই।






