এবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে সিবিআই রিপোর্ট পেশ করল। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে যে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ। এরপরই এই নিয়ে শুরু হয়েছে নানান কানাঘুষো।
গত নভেম্বরে সিবিআইকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে আগামী দু’মাসের মধ্যেই এসএসসিতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে যে তদন্ত চলছে তা শেষ করতে হবে। সব মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফিরিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিমকোর্টের সেই নির্দেশ মেনেই সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করল সিবিআই।
জানা গিয়েছে, বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে এই রিপোর্ট জমা পড়েছে। এসএসসি-র গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশমের তদন্ত শেষ হয়েছে বলে হাইকোর্টে জানিয়েছে সিবিআই। আজ, সোমবার এই রিপোর্ট ও চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এই চার্জশিটে নাম রয়েছে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও রাজ্যের আরও এক আমলার।
এই চার্জশিটে সিবিআই আরও জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে কলকাতার বড়বাজার, মানিকতলা, আলিপুর, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, নারকেলডাঙা সহ মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই তল্লাশি থেকে আর্থিক লেনদেন সহ প্রায় ৩ হাজার পাতার নথি উদ্ধার করেছে ইডি। এর সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নগদ টাকা ও জমির দলিল, ১৪ টি মোবাইল, ৪ টি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি হার্ড ডিস্ক।
অন্যদিকে, এসএসসি-র ভূমিকা নিয়ে আবার ‘বিতর্কিত’ চাকরিপ্রাপকদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আদালতে সওয়াল করেন, “এসএসসি ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সাঁতার কেটে যাচ্ছে। তারা সবার সঙ্গেই খেলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না তাঁরা। তাদের ভূমিকা সন্দেহজনক”।
আগামী ১৫ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি রয়েছে। এদিন আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করবে সিবিআই, মূল মামলাকারী ও এসএসসি। সব পক্ষ শোনার পরই ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেবে যে একক বেঞ্চের নির্দেশে যাদের চাকরি বাতিল হয়েছিল, তারা চাকরি করবেন কী না।





