আর জি করের ঘটনায় একের পর এক তথ্য উঠে আসছে যা তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু রহস্যকে আরও যেন জটিল করে তুলছে। কোনও ষড়যন্ত্রের শিকার কী তরুণী চিকিৎসক? প্রমাণ লোপাট করা হচ্ছে তাঁর মৃত্যুতে? এমন নানান প্রশ্ন যখন মাথাচাড়া দিচ্ছে তখনই সামনে এসেছে তিনটি ফোন কলের রেকর্ডিং। হাসপাতাল থেকে নির্যাতিতার মা-বাবার কাছে গিয়েছিল তিনটি ফোন। আর সেই ফোন করেছিলেন আর জি করের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার। এবার তাঁকে জেরা করল সিবিআই।
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর তাঁর পরিবারকে ফোন করে প্রথমে অসুস্থতা ও পরে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন এই মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার। এর আগের শুনানির দিন সুপ্রিম কোর্টেও উঠেছিল এই প্রসঙ্গ। অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের আচরণকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলেছিলেন বিচারপতি জেবি পাদরিওয়ালা। এবার তাঁকেই করা হল জেরা।
গতকাল, বৃহস্পতিবার তিনটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তা নিয়ে এই মুহূর্তে প্রবল শোরগোল। সেই ফোন তিনটিতে শোনা যায় আর জি করের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা ও আর জি করের মহিলা সুপার অ্যাসিস্ট্যান্টের ফোনে কথোপকথন। প্রথম ফোনে নির্যাতিতার মা-বাবাকে জানানো হয়, তাদের মেয়ে অসুস্থ। দ্বিতীয় ফোন কলে জানানো হয়, তাদের মেয়েকে এমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর শেষ ফোন কলে জানানো হয় তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সেই মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে তলব করেছিল সিবিআই। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, তিনি জানিয়েছেন, সেদিন সেমিনার রুম থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর অনেক ছাত্রছাত্রী ও আধিকারিকই ছিলেন সেখানে। চেস্ট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান তাঁকেই বলেন নির্যাতিতার বাড়ি ফোন করতে।
কিন্তু মিথ্যে কেন বলেছিলেন তিনি?
এই প্রশ্নের উত্তরে মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার জানিয়েছেন, বাড়িতে যেহেতু বয়স্ক মানুষ রয়েছেন, তাই তারা যাতে বিচলিত না হয়ে পড়েন, সেই কারণেই তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এও জানিয়েছেন,অল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি দু’বার ফোন করছিলেন তরুণী চিকিৎসকের বাড়িতে। কিন্তু অনেকটা সময় কেটে গেলেও পরিবার না পৌঁছলে ফের তিনি পরিবারকে ফোন করেন।
আরও পড়ুনঃ এবার উঠল পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবী, ২ সেপ্টেম্বর লালবাজার অভিযান জুনিয়র চিকিৎসকদের
সিবিআই সূত্রে খবর, মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার জানিয়েছেন, তিনি ঘাবড়ে গিয়েই আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সত্যিই কী ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ যে অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে তাঁর গলায় কোনও চিন্তা বা ঘাবড়ানোর চিহ্ন মেলেনি। বরং নির্লিপ্ত হয়েই আত্মহত্যার কথা জানান তিনি। তাহলে কী আত্মহত্যার কথা বলে এই মৃত্যুকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা চলছিল? তাঁকে কী কেউ এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর মেলে কী না, সেটাই দেখার!





