পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট মানেই উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি চিন্তা। প্রতি বারই নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি। এ বারও তার ব্যতিক্রম নয়। ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে অশান্তির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক কমিশন।
সূত্রের খবর, এই ভোটে বড় পরিসরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে রাজ্যে বাহিনী আসবে এবং ভোটের আগে বিভিন্ন জেলায় তাদের ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়েই কয়েকশো কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে ঢুকছে। শুধু উপস্থিতি নয়, ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রুটমার্চ ও এলাকায় টহলদারি, যাতে ভোটের আগেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হয়।
এই বার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের সংবেদনশীল এলাকা থেকে বাহিনী আনা। জম্মু-কাশ্মীর এবং মণিপুর এই দুই জায়গা থেকে বড় সংখ্যায় জওয়ান আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ২০০-র বেশি কোম্পানি বাহিনী এই দুই অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসবে। তার মধ্যে কাশ্মীর থেকেই আসছে প্রায় ১৭৪ কোম্পানি এবং মণিপুর থেকে ৩৩ কোম্পানি। এতদিন যাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সামলেছেন, তাঁদেরই এবার ব্যবহার করা হবে বাংলার ভোটে।
মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই রাজ্যে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই বাহিনী আসছে এবং বুধবার থেকেই তাঁদের কাজে নামানো হবে। এক একটি কোম্পানিতে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন জওয়ান থাকবেন। এর মধ্যে থাকবে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি-র সদস্যরা। এরপর ৭ এপ্রিল ও ১০ এপ্রিল আরও দফায় বাহিনী আসবে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ কাশ্মীর ও মণিপুর থেকেই আসছে।
আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ায় শোকের ছায়া! মাত্র ৪২ বছরেই সব শেষ, প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! এই পরিণতির কারণ কী?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এ বারও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে মোট বুথ সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি, এবং সবকটিতেই নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোট প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা কোনও ঝুঁকি নয়, ভোটারদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।





