ঋণ দেওয়া লোভ দেখিয়ে গরীব মহিলাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল এক ঋণপ্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। টাকা নিয়ে এলাকা থেকে উধাও সংস্থার প্রতিনিধিরা। প্রতারকদের না পেয়ে বাড়ির মালিককে আটক করেন প্রতারিতরা। তাদের দাবী বাড়ির মালিকের সামনেই টাকা জমা দিয়েছিলেন তারা। এবার তাই বাড়ির মালিককেই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলায়। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার অনুপ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তিনজন মহিলা ‘আশার আলো ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প’ নামের একটি সংস্থার অফিস খুলেছিল। এলাকার মহিলাদের বলা হয়েছিল যে তাদের আর্থিকভাবে সবল করতে সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হবে। এই ঋণ নিতে গেলে মহিলাদের প্রথমে ২৫৫০ টাকা অগ্রিম জমা দিতে হবে। সংস্থার তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় যে এই টাকা জমা দিলে ৫০ হাজার টাকার ঋণ পাবেন মহিলারা।
সেই অনুযায়ীই ওই এলাকার ১০০-এরও বেশি মহিলা ওই সংস্থায় অগ্রিম ২৫৫০ টাকা জমা দেন। সংস্থার প্রতিনিধিদের তরফে তাদের বলা হয় যে টাকা জমা দেওয়ার পর সন্ধ্যের মধ্যেই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা করে ঢুকে যাবে। কিন্তু সন্ধ্যেবেলা দেখা যায়, টাকা তো ঢোকেই নি, উপরন্তু ঋণপ্রদানকারী ওই সংস্থার অফিসেতালা মেরে কর্মীরা গায়েব। তাদের ফোনও সুইচড অফ বলে জানা যায়
প্রতারিত কর্মীদের নাগাল না পেয়ে যে বাড়িতে ওই সংস্থার অফিস খুলেছিল, সেই বাড়িতে চড়াও হন মহিলারা। আটকে রাখা হয় ওই বাড়ির মালিককে। তাদের জমা দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবী তোলেন প্রতারিত মহিলারা। এই ঘটনায় কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।
এই বিষয়ে এই প্রতারিত মহিলা বলেন, “আমাদের আড়াই হাজার টাকা করে জমা দিতে বলে। ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বলেছিল। আমরা টাকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু ঋণের কোনও টাকা আসেনি। যে নম্বর দিয়েছিল, সেটাতে ফোন লাগছে না। সন্ধ্যার মধ্যে টাকা ঢুকে যাবে বলেছিল। সেটাই আমরা দেখতে এসেছি। এখানে এসে দেখছি অফিসে তালা বন্ধ। আমাদের মতো অনেকেই এসেছে দেখছি”।
কী বক্তব্য বাড়ির মালিকের?
এই ঘটনার বিষয়ে বাড়ির মালিক বলেছেন, “তিনদিন হল আমার বাড়িতে ভাড়া এসেছিল। আমাকে বলেছিল বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে। ১০ তারিখে বেতন পাবে জানিয়েছিল। তখন ভাড়ার অগ্রিম জমা দেওয়ার কথা বলেছিল। এরা তো এসে বলছে ওরা টাকা নিয়ে পালিয়েছে। আমি এই বাড়ির মালিক। আমি এ সবের বিষয়ে কিছুই জানি না। তিন জন মেয়ে ভাড়া নিয়েছিল”।





