রাজ্য

লালন শেখের মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে সিআইডি তদন্ত, সিবিআইয়ের ৭ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ পরিবারের

গত সোমবার সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে মৃত্যু হয় বগটুই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের। এই মৃত্যু রহস্যের কিনারা যাতে সিআইডি করে, এর জন্য আবেদন জানান লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি। সেই আবেদন মেনে এই মৃত্যুরহস্যের তদন্তের ভার নিল সিআইডি। রেশমা বিবির অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআইয়ের ডিআইজি, এসপি-সহ ৭ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৩০২ ধারায় খুন, ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় মারধর ও গভীর আঘাত হেনে মারধর, ১২০বি ষড়যন্ত্র, ৪৪৮ অনধিকার প্রবেশ, ৫০৯ মহিলার সন্মানহানি-সহ নানান গুরুতর অভিযোগের মতো ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মামলা রামপুরহাট মহ্কুমা আদালতের এসিজেএমের এজলাসে পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে আবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় লালন শেখের মৃতদেহ। প্রথমে তারা দাবী জানান যে দোষীরা শাস্তি না পেলে তারা মৃতদেহ নেবেন না। তবে পরে সি আইডি-র হাতে তদন্তভার যেতে তারা দেহ নেয় কিন্তু তা নিয়ে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ দেখান। অভিযুক্তকে গ্রেফতারির দাবী তোলা হয়।

সিবিআই অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে এদিন প্রথম থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা ছিল। এই অস্থায়ী ক্যাম্পের বাইরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে জায়গা। এই ক্যাম্পের বাইরেই বিক্ষোভ দেখান বগটুই গ্রামের লোকজন ও লালনের পরিবার।

বলে রাখি, গত সোমবার সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীনই সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পের বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় বগটুই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের ঝুলন্ত দেহ। লালনের পরিবারের দাবী তাঁকে খুন কর হয়েছে। এরপর থেকেই সিবিআই ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামবাসীরা।

লালনের পরিবারের তরফে এই ঘটনায় সিআইডি-র তদন্তের আর্জি জানানো হয়। গতকাল, মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় মৃত লালন শেখের স্ত্রীর আর্জি মেনে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় সিআইডি। তৈরি হয় পাঁচ সদস্যের একটি দল। এবার সিবিআইয়ের সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা।

Back to top button
%d