২০২১-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এতদিন উত্তপ্ত হয়েছিল বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ। বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলার মসনদ দখল করার পর ফের মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকারের ওপর সিবিআই হামলা!
আজ সকালে গ্রেফতার করা হয় মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে।
রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কদের গ্রেফতারির পর তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তাল নিজাম প্যালেসের সামনের রাস্তা। মহামারী উপেক্ষা করে বেলা গড়াতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বিক্ষোভের মধ্যেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ইটি বৃষ্টি শুরু করে বাহিনীকে লক্ষ্য করে। এর ফলে আরও উত্তপ্ত হল পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন- বিজেপি করে বলে শুভেন্দু-মুকুলের সাত খুন মাফ! যত দোষ ফিরহাদ-মদনের? ফুঁসছে তৃণমূল শিবির!
এই পরিস্থিতিতে ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব বলে মনে করেছে সিবিআই। আর তাই গ্রেফতার হওয়া মন্ত্রী বিধায়কদের আদালতে পেশ করার বদলে ভার্চুয়াল শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে এই মামলার ভার্চুয়াল শুনানি হবে। জানা গেছে শুধুমাত্র আইনজীবীরা কোর্টে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন। আর নিজাম পালেস বসেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেবেন মদন, শোভন, সুব্রত, ফিরহাদ।
প্রসঙ্গত, মন্ত্রী-বিধায়কদের গ্রেফতারির পরই বেলা বাড়তেই নিজাম প্যালেসে গিয়ে উপস্থিত হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই বাইরে জড়ো হতে থাকেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। দলীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ভিতরে তত ক্ষণে মমতাও বসে পড়েন চেয়ারে। এরপর সময় যত গড়াতে থাকে, ততই লোকের ভিড় বা়ড়তে থাকে সিবিআই দফতরের সামনে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে যখন সিবিআই আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন, সেখানেও একপ্রস্থ বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সমর্থকরা। তাঁরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে পথ আটকানোর হুমকি দেন। কিন্তু পরিবহণ মন্ত্রী সমর্থকদের অশান্তি না করার আবেদন জানান। তারপর চেতলার বাড়ি থেকে গাড়ি বেরিয়ে যান।
তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের দাবি, রাজ্যে বিজেপির বিপর্যয় হওয়ার পরই প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করেছে কেন্দ্রে শাসন করে দলটি। তাঁদের প্রশ্ন, কেন একই অভিযোগে অভিযুক্ত মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীদের গ্রেফতার করা হবে না? নাকি তাঁরা বিজেপি করেন এই কারণেই পার পেয়ে যাবেন? কারণ এই সমান দোষে অভিযুক্ত ছিলেন তারাও। নারদ স্ট্রিং অপারেশনে তাঁদের ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছিল! নাকি বাংলায় ভোটে হেরে রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে বিজেপি? প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা!





