পায়রা পোষার নেশাই ডেকে আনল বিপদ, চোর সন্দেহে নবম শ্রেণীর পড়ুয়াকে পিটিয়ে খু’ন, জ্বলছে এলাকা

বাড়িতে পায়রা পোষার খুব শখ ছিল। পাশের গ্রামে উড়ে চলে গিয়েছিল বাড়ির পায়রা। তা খুঁজতেই দুই বন্ধুকে নিয়ে পাশের গ্রামে যায় নবম শ্রেণীর পড়ুয়া। তাতেই ঘটে বিপত্তি। পায়রা চোর সন্দেহে ওই গ্রামের বাসিন্দারা আটকে রাখে ওই নাবালককে। মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরের দিন সকালে মাঠ থেকে উদ্ধার হয় নবম শ্রেণীর ওই পড়ুয়ার মৃতদেহ।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে। মৃত ওই ছাত্রের নাম বিশ্বজিৎ দাস। শুক্রবার বিকেলের দিকে বাড়ির পোষা একটি পায়রা খুঁজে না পাওয়ায় দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পাশের গ্রামে মাসুন্দি গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকায় পায়রা খুঁজতে বেরিয়েছিল ওই নাবালক। তার পরিবার ও আত্মীয়দের দাবী, সেখানে পায়রা খোঁজার সময় চোর সন্দেহে তিন বন্ধুকে ধাওয়া করে গ্রামবাসীরা।

তাদের মধ্যে একজন কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিল। অপর এক বন্ধুকেও আটকে রেখে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য দ্বিতীয় বন্ধুও ছাড়া পেয়ে যায়। কিন্তু যে কিশোরের পায়রা হারিয়ে গিয়েছিল, সেই কিশোর আর শুক্রবার সারা রাত বাড়ি ফেরেনি বলে দাবী নাবালকের পরিবারের।

মৃতের বাবা বিকাশ দাস জানান, “শুভ কোনওরকমে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। এর পর শুভ গ্রামে এসে খবর দেয় ওদের দুজনকে আটকে মারধর করা হচ্ছে। তার পর বাবুসোনার বাড়ি থেকে লোকজন এবং আরও কয়েকজন মাসুন্দি গ্রামে যায়। সেখানে গিয়ে বাবুসোনাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু আমার ছেলেকে দেখতে পাওয়া যায় নি। তার পর থেকে বাড়িও ফেরেনি”।

প্রথমদিকে ওই নাবালকের পরিবারের লোকজনের মনে করেছিলেন, বিশ্বজিৎ হয়তো মাসুন্দি গ্রামে তাড়া খেয়ে অন্য কোথাও পালিয়ে গিয়েছে। ভয়ে আর বাড়িতে আসেনি। সারারাত খোঁজাখুঁজির পরও হদিস মেলেনি তার। এরপর গতকাল, শনিবার ভোরে মাসুন্দি গ্রামের কাছে মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায় বিশ্বজিৎকে। তাকে উদ্ধার করে কেতুগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু ক্ত্রেহে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিকাশবাবুর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মে’রে দেহটি রাতের দিকে মাঠে ফেলে দিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টামূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles