রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankar) অভিযোগের জবাবে না পাতায় চিঠি প্রেরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে বেড়ে যাওয়া মাওবাদী কার্যকলাপ–সহ পশ্চিমবঙ্গের আইন–শৃঙ্খলার অবনতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিছুদিন আগেই রাজ্য পুলিশের ডিজি–কে চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন রাজ্যপাল।
চিঠিতে ডিজি কে তাঁকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ডিজি রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটেই উদ্যোগী নন। উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি— এই কথা বলেও কটাক্ষ করেন জগদীপ ধনখড়। সেই চিঠির জবাবও দিয়েছিলেন ডিজি বীরেন্দ্র (DG Virendra)।
কিন্তু থেমে থাকেননি রাজ্যপাল। একের পর এক টুইটে আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীকে। এবার এরই জবাবে নবান্ন থেকে ৯ পাতার পত্রবাণ পৌঁছল রাজভবনে। লিখলেন ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যপালকে পাঠানো ওই চিঠিতে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘রাজ্যপালের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ডিজি–কে দেওয়া তাঁর চিঠির ভাষা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হতাশাব্যঞ্জক। আমি এতে ক্ষুব্ধ।’ একই সঙ্গে রাজ্যপালের ক্ষমতাকে ব্রিটেনের রাজার সমান বলে উদ্ধৃত করে— সংবিধানের ১৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখও চিঠিতে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, রাজ্যের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার রাজ্যপালের নেই। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি দ্বারা মনোনীত আর মুখ্যমন্ত্রী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকার ও রাজ্য পুলিশকে অপমান করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্যকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বলেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি চিঠিতে রাজ্যপালকে বলেন, আপনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান অথচ কেন্দ্রের শাসকদলের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন না। চিঠিতে মমতা রাজ্যপালকে বলেছেন, আপনার বক্তব্যে সাধারণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। কারও মৃত্যু হলে আইন আপনাকেই কিন্তু দায়ী করবে। না পাতার এই পত্র বোমার কি উত্তর আসে রাজভবন থেকে সেটাই এখন দেখার।





