হঠাৎই পঞ্চায়েত অফিস থেকে ভেসে এল সানাইয়ের সুর, সঙ্গে শঙ্খ ও উলুধ্বনি। সকলে বেশ হতবাক, হচ্ছেটা কী? কিছুক্ষণ পর খোলসা হয় পুরো বিষয়টা। পঞ্চায়েত অফিসের আয়োজন করা হয় উপপ্রধানের আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠানের। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত অফিসে উপপ্রধানের আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠানের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে যা নিয়ে বেশ বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর, কিছুদিন বাদেই উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের বিয়ে। নতুন জীবন শুরু করার আগে উপপ্রধানের যে আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা হয়েছে, তা বেশ ভালো কথা। কিন্তু সেই আয়োজন বাড়িতে করা যায়নি কারণ উপপ্রধানকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর মতো সময় পাওয়াই নাকি যায়নি। সেই কারণে বাধ্য হয়ে কাজ সামলে পঞ্চায়েত অফিসেই আয়োজন করা হয় আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠানের।
পঞ্চায়েত অফিসের মহিলারা পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে খেতে দেন উপপ্রধানকে। কাঁসার থালা-বাটিতে সাজানো মাছ-সহ নানান ধরণের পদ। সঙ্গে দই, মিষ্টি, পায়েস। স্মার্টফোনে বাজানো হয় শঙ্খ, সানাইয়ের সুর, উলুধ্বনিও। এরপর একে একে উপপ্রধানকে খাইয়েও দেন।

পঞ্চায়েত অফিসে এই আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠান পালন করার ছবি এখন ভাইরাল। এই নিয়ে নানা বিতর্কও শুরু হয়েছে। একাংশের দাবী, কর্মসংস্কৃতি নষ্ট করে এভাবে আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান পালন করা উচিত নয়।
তবে ওই পঞ্চায়েত অফিসের এক সদস্যের কথায়, “জন্মদিন বা অন্যান্য কোনও বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানাতে সব অফিসেই অনুষ্ঠান হয়। কেকও কাটা হয়। তাতে বিতর্কের কিছু নেই। সদস্যরা চাঁদা দিয়ে এই অনুষ্ঠান করেছেন”। তবে পঞ্চায়েতের প্রধান ডলি নন্দী ও উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডল এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান নি।
অন্যদিকে, ওই ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানান যে তিনি এই বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। তবে এই ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলেন তিনি।





