ফের বিতর্কের শীর্ষে বাঁকুড়া (Bankura)। কিছুদিন আগেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteer) দিয়ে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগের ঘোষণার জেরে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল বাঁকুড়াকে। বাঁকুড়া পুলিশের ‘অঙ্কুর’ নামের সেই প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে ঢের। সেই বিতর্কের রেশ শেষ হতে না হতেই এবার ফের বিতর্ক শুরু হল বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (Bankura University) অধ্যাপক (professor) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গত ২৪শে মার্চ জারি করা সেই বিজ্ঞপ্তিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিজ্ঞপ্তিতে পদার্থবিদ্যার জন্য অধ্যাপক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে অস্থায়ী অধ্যাপকের জন্য ন্যূনতম পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে আর নেট উত্তীর্ণ হতে হবে বা পিএইচডি করা থাকতে হবে। এতদূর পর্যন্ত সব ঠিক থাকলে গোল বাঁধল এর পরের কথায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ওই অস্থায়ী অধ্যাপকরা ক্লাস প্রতি পাবেন ৩০০ টাকা করে আর একজন অস্থায়ী অধ্যাপক সপ্তাহে বড়জোর চারটি ক্লাস নিতে পারেন। অর্থাৎ অস্থায়ী অধ্যাপক এভাবে মাসে মোটামুটি ৪,৮০০ টাকা পেতে পারেন।
এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিরোধীদের কটাক্ষ। বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, “বিষয়টি অদ্ভূত ও যথেষ্ট বেদনাদায়ক। ইউজিসি ২৮ মার্চ থেকেই অতিথি অধ্যাপকদের ক্লাস পিছু ১৫০০ টাকা অথবা মাসিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছে। রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই মন্দা! এতো প্রায় সিভিক পুলিশের মতো সিভিক অধ্যাপক হবে? এর চেয়ে শিক্ষা দানের আবেদন করলেই হয়”।
এই বিষয়ে সিপিআইএম বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতির বক্তব্য, “শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে ধ্বংস করতে হয় এটা তার একটা নমুনা”। তাঁর কথায়, “আমরা খেতমজুরের মজুরি ৬০০ টাকা করবার দাবি তুলিছ। সেখানে অধ্যাপকের ক্লাস প্রতি ৩০০ টাকা! এতে দায়বদ্ধতা থাকবে না। শিক্ষাকে অবনতির দিকে নিয়ে যাওয়ার সার্বিক প্রয়াস”।
তবে এই বিষয় নিয়ে পাল্টা বিরোধীদের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের তরফে। তাদের দাবী, বিরোধীরা বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরা প্রশ্ন করেন, “টাকার অঙ্কে শিক্ষাকে কেন জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে”?
তাঁর কথায়, অনেকেই পড়ানোর জন্য আগ্রহী থাকে। তৃণমূল নেতা এও বলেন, “অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে চান। অনেকে বিনা পয়সাতেও পড়ান। একটা ইন্টারভিউয়ের প্রসেস হচ্ছে। এতে অসুবিধার কিছু দেখছি না। শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মূল্য দিয়ে বিচার করা যায় না”।





