দ্বিচারিতা বামেদের! গণশক্তির প্রথম পাতাতেই পুজোর বিজ্ঞাপন, পুজো উদযাপনের বার্তা, শুধু কী মুখেই ‘উৎসবে না’ ফেরার স্লোগান লাল পার্টির, উঠছে প্রশ্ন!

গণশক্তি! সিপিএমের এই মুখপত্র বহুল প্রচলিত। বাংলায় সিপিমের অস্তিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়ে এলেও তাদের এই মুখপত্র কিন্তু বেশ বহাল তবিয়তেই চলছে। এবার এই মুখপত্রের কারণেই বেশ বিতর্কের মুখে পড়তে হল দলকে। দুর্গাপুজো উদযাপনের বার্তা দিয়েই সমালোচনার মুখে সিপিএম।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের হাওয়া। এমন আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জনগণকে উৎসবে ফেরার বার্তা দিয়েছিলেন, সেই সময় এর বিরোধিতা করেছিলেন নানান বিরোধী পক্ষই। এর মধ্যে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমরাও। বামেদের তরফেই জানানো হয়েছিল, তারা উৎসবে ফিরছেন না। কিন্তু তাদের মুখপত্র যে অন্য কথাই বলছে। এমন ঘটনায় বামেদের দ্বিচারিতা নিয়ে সমালোচনা জনগণের।   

কী ঘটেছে ঠিক?

আসলে সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তির প্রথম পাতাতেই দেখা গিয়েছে একটি বিজ্ঞাপন। তাতে অমিতাভ বচ্চনের ছবি রয়েছে আর পাশে লেখা- ‘দুর্গাপুজো উদযাপন করুন গৌরবের সাথে’। পাশে চপ্পল ও জুতোর ছবি। বিজ্ঞাপনের অংশ হিসেবেই এই কথা লেখা হলেও যেহেতু সংবাদপত্রটি সিপিএমের, সেই কারণেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এই বিতর্কে শান দিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আবার একহাত নিতে একটুও দেরি করেন নি বামেদের। তীব্র খোঁচা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ফেসবুকে বিপ্লব- পুজো নয়, উৎসব নয়। আর টাকা পেলে উল্টো স্লোগান কাগজে”। তিনি এও লেখেন, এটা সিপিএম পার্টির কাগজ, কোনও বাণিজ্যিক কাগজ নয়। টাকার জন্য আত্মাকে বিক্রি করা যায়। এই ঘটনাকে বামেদের দ্বিচারিতা বলে দেগেছেন তিনি।     

এই ঘটনায় যদিও দলের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে গণশক্তির সম্পাদক শমীক লাহিড়ী বলেছেন, “সংবাদমাধ্যমে বরাবরই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। এটা কোনও নতুন কথা নয়। বিজ্ঞাপনে যে কথা বলা হয় সেটার দায় সংবাদপত্রের নয়। সেটা সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় অবস্থানও নয়। সেটা যে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তার কথা। একজন সংবাদকর্মী হিসাবে কুণালেরও তা ভালমতই জানা আছে। রাজনৈতিক কারণে খামোখা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন উনি”। 

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ করে খুন, তারপর প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা, অভিযুক্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের

বলে রাখি, এর আগেও গণশক্তির অনেক বিজ্ঞাপন নিয়েও বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এবার বামেদের এই দ্বিচারিতা শুধুমাত্র তৃণমূল নয়, চোখে পড়ছে সাধারণ মানুষেরও। বামেরা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় উৎসবে না ফেরা নিয়ে নানান বার্তা দিচ্ছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে তাদেরই মুখপত্রে এমন এক বিজ্ঞাপন থাকলে প্রশ্ন তো উঠবেই।

RELATED Articles