পুরনো হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল কাউন্সিলরের কারাদণ্ড! রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কি লুকিয়েছিলেন ১১ বছর?

ভারতে বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রে। বহু মামলার নিষ্পত্তি হতে সময় লেগে যায় বছরের পর বছর। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সুবিচারের অপেক্ষায় থাকেন এক যুগেরও বেশি। এর মধ্যে কেউ বিচার পান, কেউবা থমকে যান দীর্ঘসূত্রিতার ফাঁদে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলার গুরুত্বও যেন ফিকে হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেন। ফলে ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখা মানুষগুলো শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন।

এই দীর্ঘ সময়ের কারণে বহু মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যায়, সাক্ষীদের বক্তব্য বদলে যায়, এমনকি অনেক সময় অভিযোগকারীরাই লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বছরের পর বছর আদালতের দোরগোড়ায় ঘুরেও তারা পান না কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার। সমাজে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যেখানে অপরাধের বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, কিন্তু শেষপর্যন্ত ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এবার তেমনই এক মামলায় দীর্ঘ ১১ বছর পর মিলল আদালতের রায়।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালে, দুর্গাপুজোর সময়। পানিহাটির একটি দুর্গা মন্দির থেকে প্রণামী বাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে এক স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শম্ভু চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রায় ১০ হাজার টাকা খোয়া যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি।

আরও পড়ুনঃ নৃশংসতা পারিবারিক সম্পর্কে! খুন করে লাশ নিয়ে ট্রেনে ঘুরছিলেন মা-মেয়ে!

সেই সময় একদল দুষ্কৃতী মন্দির প্রাঙ্গণেই শম্ভু চক্রবর্তীকে ঘিরে ধরে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। অভিযোগ, তখনই প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর তারক গুহ। যদিও তখন তিনি কোনও পদে ছিলেন না, তবে এলাকায় তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা দীর্ঘায়িত হয়। অভিযোগকারীদের বহুবার হুমকির মুখেও পড়তে হয়। তবে শেষপর্যন্ত, বছরের পর বছর লড়াই চালানোর পর আদালত কঠোর সিদ্ধান্ত নিল।

মঙ্গলবার ব্যারাকপুর আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক পানিহাটি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারক গুহ-সহ আরও চারজন— নেপাল গুহ, জয়দেব মুখার্জি, শ্যামল দাস ও হরিপদ সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সকলেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন তিনি। এক সপ্তাহ আগেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তারক গুহ, তখনই তাঁর গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেওয়া হয়। ১১ বছর পর অবশেষে নিহত শম্ভু চক্রবর্তীর পরিবার সুবিচার পেল।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles