দেশব্যাপী লকডাউন জারি হওয়ার আগেই পরকীয়া করতে প্রেমিকের বাড়ি গিয়েছিলেন লক্ষী। তারপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। মাসতুতো দেওরের সঙ্গে সম্পর্কের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়েই ঘরের ভিতর আত্মহত্যা করলেন গৃহবধূ। আর এই ‘মনোরম’ দৃশ্য উপভোগ করতে ‘হটস্পট জোন’ পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার এরেন্দা গ্রামে গ্রামবাসীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই জড়ো হলেন। কারোও মুখে মাস্ক আছে আবার, কারোও মুখে নেই। তবে সকলের মুখেই বিষয় নিয়ে চলছে গভীর পর্যালোচনা। কেউ বলছে ‘প্রেম করতে গিয়ে ধরা পড়েছে বলেই তো গলায় দড়ি দিয়েছে’, কেউ বা বলছে, ‘মেয়েটা নিজের কপাল নিজেই পুড়িয়েছে!’ অথচ লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি উলঙ্ঘন করে নিজেরাই যে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন সেকথা খেয়াল নেই কারোরই!
রবিবার সকালে এরেন্দা গ্রামে খবর ছড়িয়ে পরে যুবক গোবিন্দ বেরা নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন এবং সঙ্গে রয়েছেন আরও এক মহিলা। খবর রটতেই ভিড় জমে যায় তাদের দেখতে। অবিবাহিত গোবিন্দের সাথে এই মহিলা কে? জানতে উৎসুক সকলেই। এরপরে স্থানীয়রাই খোঁজখবর করে জানতে পারেন, মহিলা বাসুদেব সেনাপতির স্ত্রী লক্ষ্মী সেনাপতি। ২৮ বছর বয়সীর বাড়ি কাঁথির মাজনা কাপাসদা গ্রামে।
তাদের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আগে থেকেই ছিল। মাঝেমধ্যেই লুকিয়ে দেখা করতেন তাঁরা। তবে লকডাউন শুরু হওয়ার আগে বাড়িতে বেরাতে যাচ্ছি বলে লক্ষ্মী লুকিয়ে গোবিন্দের সঙ্গে দেখা করতে যান কিন্তু তারপর আচমকাই লকডাউন জারি হলে আর কাঁথি ফিরতে পারেননি তিনি।
এরপর তার শশুরবাড়ির লোক সমস্তটাই জেনে গেলে শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। যার জেরে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে পুলিস। এদিন দেহ দুটি উদ্ধার করতে এসে আরও বেকায়দায় পড়ে পুলিস। লকডাউনের মধ্যেও এত ভিড় যে রীতিমত হিমশিম খান পুলিসকর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হলেও, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।





