নজিরবিহীন ঘটনা! যুবককে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো, একসঙ্গে ৭ জন দোষীকে ফাঁসির নির্দেশ আদালতের

এমন রায় এর আগে বাংলায় শোনা গিয়েছে কী না সন্দেহ। এক মামলায় একযোগে ৭ জনের ফাঁসির নির্দেশ দিল আদালত। গত সোমবারই ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল যুবক খুনের মামলায়। তাদের মধ্যে একজন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে মুক্তি দেয় আদালত আর বাকি ৭ জনকে দেওয়া হয় ফাঁসির নির্দেশ।   

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালে। হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা ছিলেন বিষ্ণু মাল। সেই বছর ১১ অক্টোবর চুঁচুড়ার জনবহুল এলাকা রায়ের-বেড়ে থেকে ওই যুবককে মোটরবাইকে করে তুলে নিয়ে যায় হুগলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশাল দাস ও তার দলবল। নেপথ্যে ছিল ত্রিকোণ প্রেমের ঘটনা। ওই রাতেই চাঁপাদানি এলাকায় বিষ্ণুকে নির্মমভাবে খুন করে বিশাল।

বিষ্ণুর ধর-মাথা আলাদা করে দেওয়া হয়।দেহ কেটে ৬ টুকরো করা হয়। সেই টুকরোর ছবিও তুলে রাখে বিশাল ও তার সাগরেদরা। এরপর দেহাংশ প্যাকেটে পুরে শেওড়াফুলি ও বৈদ্যবাটির নানান জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বিশালের সাগরেদদের গ্রেফতার করলে তারাই সব স্বীকার করে নেয়।

কোথায় কোথায় দেহের টুকরো ফেলা হয়েছে, তা জানায় দুষ্কৃতীরা। সেই সূত্র ধরেই দেহাংশের খোঁজ মিললেও কাটা মাথার খোঁজ মেলেনি। তখনও পর্যন্ত বিশাল ধরা পড়েনি। ওই বছরই ৩ নভেম্বর এলাকার লোকজন বিশালকে দেখতে পেয়ে ধরতে গেলে গুলিও চালায়। তবে পালাতে পারেনি। চন্দননগর থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়। আনা হয় চুঁচুড়া থানায়। সেখানেই কাটা মাথা কোথায় ফেলেছে তার সন্ধান দেয় পুলিশকে। বৈদ্যবাটি খালের ধার থেকে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় মুন্ডু উদ্ধার করে পুলিশ।

সেই মামলা চলছিল  চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। সেই ঘটনাতেই গত সোমবার ৭ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে চুঁচুড়া আদালত। গতকাল, বৃহস্পতিবার ৭ জনকে ফাঁসির সাজা দেন বিচারক শিব শঙ্কর ঘোষ। বিশাল দাস ছাড়াও ফাঁসির সাজা হয়েছে রামকৃষ্ণ মণ্ডল, রথীন সিংহ, রাজকুমার প্রামাণিক, রতন ব্যাপারী, বিনোদ দাস, বিপ্লব বিশ্বাস, মান্তু ঘোষ ও সেখ মিন্টুর।

আরও পড়ুনঃ ‘ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে তৃণমূলের হিন্দু নেতাদেরও ছুঁড়ে ফেলে দিতে ভাববেন না মমতা’, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় মমতার উদাসীন মন্তব্যে দাবী বিজেপির

সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “৩৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিষ্ণু একটা মেয়েকে ভালোবাসত। সেই প্রেমের কারণেই এই ঘটনা। মুরগি কাটার চপার দিয়ে টুকরো করে কাটে দেহ। এটা একেবারে বিরলতম ঘটনা। ৭ জনের ফাঁসির সাজা হয়েছে। আর বাকি একজনের সাত বছরের জেল হয়েছে”। দোষীদের ফাঁসির সাজায় আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিষ্ণুর মা-সহ গোটা পরিবার।

RELATED Articles