সামনেই দূর্গাপুজা (Durga Puja)! জমিয়ে আনন্দ যে করবে বাঙালি তার আভাস পুজোর কেনাকাটার ছবিতেই প্রমাণিত। মানুষের স্রোতে স্বাস্থ্যবিধির বাঁধন খুলে পড়তেই পারে। আসন্ন ভরা উৎসবের মরশুমে গা ভাসাতে তৈরি বাঙালি জাতি ঝেড়ে ফেলতেই পারে দীর্ঘদিনের বন্দিদশা। আর এই আশঙ্কাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর। বাংলায় ফের জাঁকিয়ে বসতে পারে করোনা।
মহামারী ঠেকাতে তাই কঠোর হচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর (West Bengal health department)। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলাকেই আসন্ন বিপদের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিপদের কথা মাথায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে কিছু পদক্ষেপ। শুধুমাত্র দুর্গা পুজোয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রস্তুতির জন্য সরকারের কোষাগার থেকে কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হবে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্যকর্তাদের।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, নৈহাটি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কোভিড (Covid-19) হাসপাতালে এইচডিইউ, সিসিইউ বেডের সংখ্যা বাড়ছে। তার মধ্যে পুরুলিয়া রোটারি হাসপাতালে বেড বাড়ানোর পাশাপাশি দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড করতে জেলা স্বাস্থ্যকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসত, হাবড়া ও বসিরহাট হাসপাতালে সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে। নৈহাটি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর, কাকদ্বীপ-সহ বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার হাসপাতালের চিকিৎসকদের কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ এবং বেলেঘাটা আইডিতে কোভিড প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে শীঘ্র। কয়েকদিনের মধ্যে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে বেড বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সব জেলায় একজন মেডিক্যাল সুপারভাইজার, এবং একজন প্রোটোকল ক্লিনিক্যাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজ্য।
একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, করোনার প্রকোপ ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৪৩৫টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা কেনার বরাত দেওয়া হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। এখন এমন ৪১০টি যন্ত্র কাজ করছে বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে। আগামী দেড়মাস আরও বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসাবে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কোভিড হাসপাতালে ২৩৫টি আইসিইউ, এইচডিইউ বেড বাড়বে। পুজোয় করোনা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলা স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বুধবার বৈঠক করেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। পরে স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, “পুজোর সময় করোনার প্রকোপ বাড়বে। উৎসবে সামাজিক দূরত্ব কতটা মানা হবে, তাতে সন্দেহ আছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সরবরাহ যেমন বাড়ানো হবে, তেমন সিসিইউ, এইচডিইউ বাড়ানো হবে।”





