আর জি কর কাণ্ডের জেরে রাজ্যুজুড়ে উত্তেজনা। রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে একটাই দাবী, ন্যায় বিচার চাই। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত ও কঠোরতম শাস্তি চাই। রাজপথে মিছিল করছেন নানান স্তরের মানুষ। এবার এই আন্দোলনকারীদের মধ্যেই দেখা মিলল জোড়া খুনের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত অভিযুক্ত সিপিএম নেতা দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নাগরিক সমাজ।
গত বুধবার সিঁথি মোড়ে ছিল প্রতিবাদ আন্দোলন। সেখানেই দেখা মিলেছে ১২ বছর জেল খাটা সিপিএম নেতা দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘বিচার চাই’ স্লোগান শোনা গেল তাঁর মুখেও। আর তা নিয়ে বেশ বিতর্কে জড়িয়েছে সিপিএম। যদিও সিপিএমের একাংশ ১২ বছর জেলখাটা এই সিপিএম নেতার বিচার চাওয়ার ঘটনায় বেশ বেঁকেই বসেছেন।
এই বিষয়ে গতকাল, শুক্রবার সিঁথি এরিয়া কমিটির তরুণ প্রজন্মের একাধিক ছাত্র-যুব প্রকাশ্যেই বলেছেন, “প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর নির্দেশে গ্রেপ্তার হওয়া দমদমের জোড়া খুনের আসামি এরপর থেকে নির্যাতিতার বিচার চেয়ে মিছিল বা কর্মসূচিতে এলে আমরা আর যাব না। এর পর তো কবে দেখব, গুজরাটের বিলকিস বানুর ধর্ষকদের নিয়ে এসে আমাদের পাশে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। মণিপুরের নারী নির্যাতনকারীরাও কি আসবে বিচার চাওয়া এই মিছিলে”? তবে আলিমুদ্দিনের তরফে এই বিষয়ে কোনও বাক্যব্যয় করা হয়নি।
কে এই দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়?
সিপিএম জমানার কুখ্যাত নেতা ছিলেন এই দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এমনই দাপট ছিল যে পুলিশও তাঁকে সমঝে চলত। ২০০২ সালে সিপিএমের সালইশি সভায় দুই যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। সেই সভার প্রধান ছিলেন বেলগাছিয়া জোনাল কমিটির সদস্য এই দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
পরবর্তীতে দুলালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল আলিপুর দায়রা আদালত। এরপরই সিপিএম বহিষ্কার করে দিয়েছিল দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যাবজ্জীবনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে আদালতে তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। দুলালের আর্জির বিরোধিতা করেছিলেন দুই প্রয়াত যুবকের বিধবা স্ত্রী। তারা জানিয়েছিলেন, দুলাল যদি ছাড়া পান, তাহলে তাদের প্রাণ সংশয় রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘কেন আজাদি স্লোগান উঠবে, অতিবাম লোকজন আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছে’, আর জি কর কাণ্ডের স্লোগান নিয়ে অভিযোগ দিলীপের
এরপর ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ১২ বছর প্রেসিডেন্সি জেলে কাটিয়ে ছাড়া পান দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে আসার পর গত দু’বছর ধরে তিনি যদিও সিপিএমের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের হাত ধরে ফের পুরনো ফর্মে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে ফলপ্রসূ হয়নি। সেই সাদা চুলের ফ্রেঞ্চকাট দাড়ির সিপিএম নেতাই অংশ নিলেন প্রতিবাদী মিছিলে।





