দীর্ঘ ১৩ বছর পর শিলিগুড়িতে এসেছেন তিনি। বৌদ্ধদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ি যান দলাই লামা। সেখান থেকেই চীনকে তুলোধোনা করলেন তিনি, বললেন, “ভারতেই আমরা স্বাধীন”।
গত ১১ ডিসেম্বর গ্যাংটক গিয়েছিলেন দলাই লামা। গ্যাংটক থেকে সিকিম হয়ে আজ শিলিগুড়িতে আসেন তিনি। তার এই সফরকে ঘিরে শালুগাড়া এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক এডিসিপি ডিসিপি–সহ অন্যান্যরা।
এদিন এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। স্ক্ল্ব দলাই লামাকে স্বাগত জানান। তাদের মধ্যে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নানা কথা হয়। দলাই লামাকে কাছে পেয়ে বেশ খুশি গৌতম দেব। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এদিন শালুবাড়ায় সে-গুয়ে মনাস্ট্রিতে বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘বোধিচিত্ত’ সংক্রান্ত পাঠ দেন দলাই লামা।
এদিন সিকিমের মন্ত্রী সোনম লামা বলেন, “ওঁর বক্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন কাটাতে”। মনাস্ট্রির তরফে জাম্পা ভুটিয়া বলেন, “দলাই লামার থেকে অনেক কিছু শিখলাম”। তাঁর কথায়, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এদিন শিলিগুড়ি থেকেই চীনকে আক্রমণ করলেন দলাই লামা। বলেন, “আমাদের দেশে আমরা শরণার্থী কিন্তু ভারতে স্বাধীনতা রয়েছে”।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৯ সালে চীনা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তিব্বত থেকে দলবল নিয়ে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন দলাই লামা। এরপর থেকেই বেজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে মনে করে। পরবর্তীতে অনেকবার ভারতের সাহায্য নিয়ে চীনের হাত থেকে তিব্বতকে স্বাধীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। নেহরুর আমল থেকে তাঁকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তা আজও অব্যাহত। এমন সময় ‘চিকেন নেক’ করিডোর শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে দলাই লামার চীনকে কটাক্ষ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূ্র্ণ।
বলে রাখি, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে দেশের অবশিষ্ট অংশের সংযোগরক্ষাকারী একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড শিলিগুড়ি করিডর। যা ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত।





