পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে স্যালাইন বিতরণে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংক্রমিত স্যালাইন ব্যবহারের কারণে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা যখন একদিকে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তখন স্বাস্থ্য ভবন আশ্বাস দিলেও অভিযোগ উঠেছে সরকারি হাসপাতালগুলিতে এখনও নিষিদ্ধ সংস্থার স্যালাইন বিতরণ চলছে। রাজ্য সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার সকালে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতির মৃত্যুর পর জানা যায়, ওই সংস্থার স্যালাইন ব্যবহারের পরেই রোগী মারা যান। এর আগেও ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে কর্নাটকে ওই একই সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার করে চারজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই সংস্থার পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের পণ্যগুলো কালো তালিকাভুক্ত করে। তবুও, এই মৃত্যুর পরেও কিছু সরকারি হাসপাতালে তাদের পণ্য ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রসূতির মৃত্যুর পর রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানান, “আমরা আরেকবার হাসপাতালগুলিকে চিঠি দিয়ে ওই সংস্থার পণ্য ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছি। যে পণ্যগুলো হাসপাতালগুলিতে মজুত রয়েছে, সেগুলোও ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।” যদিও এই পদক্ষেপের পরেও, শুক্রবার রাত পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে ওই নিষিদ্ধ সংস্থার স্যালাইন ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এটি রাজ্যে চলমান দুর্নীতির একটি বড় উদাহরণ। তাদের দাবি, সরকারী হাসপাতালগুলিতে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে খেলা চলছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। অভিযোগ উঠছে, যে সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেখানে শাসকদলের নেতাদের বিনিয়োগ রয়েছে। এমনকি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে দুর্নীতির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন আর শুধু চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত নন, তারা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদহ স্টেশনে ভয়াবহ আগুন! আতঙ্কিত যাত্রী থেকে বি আর সিং হাসপাতালের রোগীরা
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাটি রাজ্য সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেখানে সরকার দাবি করছে যে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে, অন্যদিকে হাসপাতালগুলিতে নিষিদ্ধ পণ্য বিতরণ থেমে নেই। আগামী দিনে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করছেন।





