মহানবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে গোটা রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। রাজ্যের একাধিক জায়গায় নানান হিংসার ঘটনা ঘটছে। হাওড়ার নানান এলাকায় এই নিয়ে তুমুল অশান্তি ছড়ায়। এরপর একে একে মুর্শিদাবাদ, নদীয়াতেও ঘটে হিংসার ঘটনা। এই বিক্ষোভের আঁচ এবার লেগেছে উত্তর ২৪ পরগণাতেও।
এমন পরিস্থিতিতে এবার রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তোপ দাগলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় সড়ক আটকে দেওয়া হচ্ছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ওখান থেকে বিবৃতি দিচ্ছেন, আর তাঁর সরকার অন্য কিছুই করছে না”।
এদিন দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “পাশকুঁড়া দিয়ে আসতে গিয়ে আমি গতকাল অবরোধের মুখে পড়েছি। দেশের অন্যান্য জায়গায় এই প্রতিবাদ শুরু হতেই একদিনেই সব নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এই রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ তো করছেই না, বরং উলটে এদের উস্কে দিচ্ছে যাতে এরা এই ধরনের উৎপাত করতে থাকে। সাধারণ মানুষের জীবনে সমস্যা হচ্ছে। ট্রেন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে, বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ বের হতে পারছে না। রাস্তায় রোগী মারা যাচ্ছে। সরকার চুপ করে বসে নাটক দেখছে”।
এই পয়গম্বর বিতর্কের আঁচ লেগেছে উত্তর ২৪ পরগণাতেও। আজ, সোমবার বারাসাতের নানান এলাকায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। কাজিপাড়ায় রেললাইনে আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখায় ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। দেগঙ্গাতেও এদিন হিংসা ছড়িয়েছে বলে খবর।
বলে রাখি, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার হজরত মহম্মদ সম্পর্কিত মন্তব্যের কারণে গত বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়াতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখে মুসলিমরা। নবান্নের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরোধ থাকে। এর জেরে চরম ভোগান্তি পোহায় সাধারণ মানুষ।
এরপর গত শুক্রবার সলপে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। ধূলাগড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে গতকালই গোটা হাওড়া জেলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। হিংসা ঠেকাতে উলুবেড়িয়ার একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফে। শুধু হাওড়াই নয়, মুশিদাবাদ ও নদিয়ার একাধিক এলাকায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।





