TMC vs BJP Clash : “হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করবই!” দিলীপ ঘোষের ঘোষণায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত তুঙ্গে, ছাব্বিশে ‘হিন্দু সরকার’ দাবি শুভেন্দুর?

বাংলার রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব নতুন কিছু নয়। ভোটের সময় ধর্মীয় মেরুকরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা আমরা বারবার দেখেছি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির উত্থান হোক বা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন— প্রতিবারই এই ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। একসময় বাংলার রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, গত কয়েক বছরে এই সমীকরণ বদলেছে। বিশেষ করে বিজেপি যে তাদের হিন্দুত্ববাদী ভাবধারা বজায় রেখে ভোটের ময়দানে নেমেছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিজেপি তাদের হিন্দু ভোটব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া। অন্যদিকে, তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার জন্য একাধিক নীতি গ্রহণ করছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে বিজেপির একাধিক নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ‘সেভ হিন্দু’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, যেখানে তিনি সাফ বলেছেন, ২০২৬-এ বাংলায় হিন্দু সরকার আসবেই। এবার সেই সুরেই গলা মিলিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য রাজনীতির অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সম্প্রতি এক সভায় দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিজেপি হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করবেই। তাঁর বক্তব্য, “একশোবার বিভাজন করব। কেউ যদি মুসলিমদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাহলে হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করার বিজেপির অধিকার রয়েছে। কারণ, এখনও এই রাজ্যে ৭০ শতাংশের বেশি হিন্দু আছেন।” শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উপকার করেনি। বরং মুসলিমদের গরিব ও অশিক্ষিত করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের থেকে বেশি মুসলিম অসমে আছেন। তবু আমরা সেখানে দু’বার ক্ষমতায় এসেছি।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি ধর্মের নামে রাজনীতি করছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। পাল্টা বিজেপির দাবি, হিন্দুদের অধিকার রক্ষার জন্যই এই আন্দোলন প্রয়োজন। শুধু দিলীপ ঘোষ নন, বিজেপির আরেক নেতা মিঠুন চক্রবর্তীও একই সুরে বলেছেন, “ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি না জিতলে হিন্দু বাঙালিদের জন্য কঠিন সময় আসবে। ৯ শতাংশ হিন্দু এখনও ভোট দেন না। তাঁদের ভোট দেওয়া উচিত, নাহলে বিপদ আসবে।”

আরও পড়ুনঃ LCH Prachand : এবার শত্রুদের শেষ রক্ষা নেই! ভারতীয় বাহিনীর হাতে আসছে মারাত্মক ‘প্রচণ্ড’ অ্যাটাক হেলিকপ্টার!

এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে মোড় নেবে, তা বলা কঠিন। বিজেপির কৌশল কতটা সফল হবে, তৃণমূল কীভাবে এর মোকাবিলা করবে, আর বাংলার সাধারণ মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিকে কতটা গ্রহণ করবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে এটা নিশ্চিত, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই এই ধরনের বিতর্ক আরও তীব্র হবে এবং রাজনীতির ময়দান আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles