Fake Voters in Kanthi: ভোটে গোপন কারসাজি? বিধায়ক আক্রান্ত, ভুয়ো ভোট নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি!

বাংলার রাজনীতিতে ভোট মানেই নতুন নাটকের মঞ্চ। আর যখন সেই ভোট কোনও সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এক শক্তিশালী সমবায় ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণের লড়াই, তখন উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠাটা যেন স্বাভাবিক। কাঁথির মাটি বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার প্রতিটি নির্বাচন এক নতুন অধ্যায় লেখে, নতুন বিতর্ক তৈরি করে। সমবায় ব্যাঙ্কের পরিচালন পর্ষদ নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা ঘটল, তা সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক মহল— সকলকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

সমবায় ব্যাঙ্ক, বিশেষ করে কাঁথির মতো এলাকায়, শুধুমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি রাজনৈতিক শক্তিরও প্রতীক। এই ব্যাঙ্কের সভাপতি পদে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি টানা ২৩ বছর ধরে এই পদে আছেন। ফলে এই ভোট শুধুমাত্র পরিচালনা বোর্ডের নির্বাচন নয়, বরং রাজনৈতিক দখলদারির লড়াইও বটে। স্বাভাবিকভাবেই, এই ভোটকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছিল আগেই। কিন্তু ভোটের দিন যা ঘটল, তা কেবল উত্তেজনাই নয়, বিতর্কের নতুন মাত্রাও যোগ করল।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই নানা জায়গায় ছোটখাটো উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ে। তবে দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রামনগর কলেজের ভোটকেন্দ্রে অভিযোগ ওঠে, কিছু ভোটার আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্রের জেরক্স কপি নিয়ে ভোট দিতে আসেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, ভোটারদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, সমবায় ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠিয়ে ভুয়ো ভোটারদের আনা হয়েছে। পুলিশ কেন তাঁদের ঢুকতে দিচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, অভিযোগ, পুলিশ ধাক্কা দেয় বিধায়ক অখিল গিরিকে। এতে তিনি পড়ে গিয়ে হাতে চোট পান। দলীয় কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কাঁথি পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর তাপস দলাই অভিযোগ করেন, ভোটারদের কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ নির্বিকার। এমনকি, তাঁকেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে, কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জনসমর্থন না থাকার কারণেই বিজেপি এসব অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।

আরও পড়ুনঃ “হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করবই!” দিলীপ ঘোষের ঘোষণায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত তুঙ্গে, ছাব্বিশে ‘হিন্দু সরকার’ দাবি শুভেন্দুর?

এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ৭৮টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে তৃণমূল আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। বাকি আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে, যেখানে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দুপুর ২টোর পর ভোট গণনা শুরু হয়েছে, আর এখন সকলের নজর ফলাফলের দিকেই। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও কে জয়ী হবে, সেটাই দেখার!

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles