গত বুধবার সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হতেই এক প্রজন্মের কাছে যেন নেমে এল এক ভয়াবহ অন্ধকার। কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটা স্টেজ কাঁপিয়ে সকলকে নিরলস আনন্দ দিয়ে গেলেন, মাত্র কিছু মিনিটের ব্যবধানেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন তিনি। কেকে (KK)! যিনি শুধুমাত্র একজন গায়ক নন, কেকে একটা গোটা প্রজন্মের জন্য একটা আবেগের নাম।
কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে এসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কেকে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানান বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে এবার কেকে-র মৃত্যু নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “কেকে-কে চক্রান্ত করে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা হত্যা। অপরাধবোধ থেকেই গান স্যালুট দিয়েছে সরকার”।
আজ, বৃহস্পতিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ করে নানান মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “একটা লোককে হত্যা করা হল। অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলায় গেলে মারা যেতে পারেন। বাংলায় এসে লোকটা বেঘোরে মারা গেলেন। এটা কলেজের অনুষ্ঠান নয়, তৃণমূল পার্টির অনুষ্ঠান। ওরা লোক জড়ো করেছে। নেতারা আয়োজন করেছেন। ওকে দিয়ে জোর করে একের পর এক গান গাইয়েছে। উনি পারছিলেন না। চলে যেতে চাইছিলেন। চক্রান্ত করে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা হত্যা”।
কেকে-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল, বুধবার রবীন্দ্র সদনে গান স্যালুট দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। তবে সরকারের এমন পদক্ষেপেরও কটাক্ষ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, “যে অপরাধবোধ তৈরি হয়েছে, তা ঢাকা দিতে গান স্যালুট দেওয়া হয়েছে। আর ওঁর মৃতদেহ চুরি করার অভ্যেস রয়েছে”। এর পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন তোলেন যে অসুস্থ হওয়ার পরও কেকে-কে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে কেন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হল?
দিলীপের এই মন্তব্যের অবশ্য পাল্টা দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এত জনের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলেন না। পেশাদার শিল্পী পারফর্ম করে বেরিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়েছেন। এটা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল কুৎসা করছে। এটা ওদের রাজনৈতিক দেউলিয়া হওয়ার উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী পূর্ণ সম্মান দিয়ে শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা করেছেন”।





