ষষ্ঠী এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়। বিশেষ করে জামাইষষ্ঠীর দিনটা তো একেবারেই আলাদা। জামাইয়ের জন্য শ্বশুরবাড়ির আয়োজন, পাত পেড়ে খাওয়া, আর একাধিক পদে সাজানো ভোজ—সব মিলিয়ে দিনটা হয়ে ওঠে বিশেষ। নতুন জামাই হলে তো উৎসাহ আরও দ্বিগুণ। জামাইয়ের মাথায় টোপর, ফটোসেশন—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নিশ্চিত। আর এবার যখন রাজনীতির ময়দানে সদ্য ‘ঘর বাঁধা’ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজে নতুন জামাই, তখন সাধারণ মানুষের আগ্রহ একটু বেশিই।
রাজনীতি যাঁর নেশা ও পেশা, সেই দিলীপ ঘোষ হঠাৎ করে ঘরোয়া আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন একেবারে পারিবারিক কারণে। সদ্য মাথায় টোপর চাপিয়ে দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন তিনি। আর তাই প্রশ্ন উঠেছে—এবার জামাইষষ্ঠীতে কি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ধুমধাম ভূরিভোজ হবে? জামাইষষ্ঠীর দিন যদি তাঁর একান্ত পারিবারিক আয়োজনে কাটে, তবে রাজনীতির ব্যস্ততা থাকবে কোথায়?
ষষ্ঠীর দিনই কলকাতায় রয়েছেন অমিত শাহ। বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক, কর্মসূচি। স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়েছিল, দিলীপ ঘোষ সেখানে থাকবেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। কারণ অতীতে তিনি শাহের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, কোনও কর্মসূচিতেই জায়গা নেই দিলীপ ঘোষের। কোনও আমন্ত্রণও পৌঁছয়নি তাঁর কাছে।
প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি যদিও বলছেন, “দল মনে করলে ডাকে, আমি নিজের কাজ করছি। এখনও দলের সঙ্গে আছি।” তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন—দলে কি তবে কার্যত কোণঠাসা তিনি? রাজ্য কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চললেও তা নিয়ে তাঁর ভূমিকা নেই বললেই চলে। একসময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার এমন ‘পিছিয়ে পড়া’ স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহলের কারণ।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : শাহের সভাতেও ডাক নেই দিলীপ ঘোষের! বিজেপির অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!
সব প্রশ্নের মাঝে জামাইষষ্ঠী নিয়ে একরাশ কৌতুক নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানালেন, “আমার শ্বশুরবাড়িই নেই, এমন জামাই আমি! দেখি কোথায় জামাইষষ্ঠী করি।” কথাটা হেসেই বললেন, তবে তার মাঝেও যেন লুকিয়ে থাকল নিঃসঙ্গতা ও বাস্তব রাজনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত। দলীয় কর্মসূচির বাইরে থেকেও নিজস্ব ভঙ্গিতে দিলীপ ঘোষ বুঝিয়ে দিলেন—তাঁর জায়গাটা এখন ঠিক কোথায়।






