লোকসভা ভোটের পরে এখনও রাজ্য রাজনীতিতে জারি রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এরই মাঝে বিজেপির অন্দরেই যেন নেমে এল নতুন দ্বন্দ্বের ছায়া। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে জনসভা করতে, তখন সেই সভা ঘিরেই তৈরি হয়েছে গরমাগরম পরিস্থিতি। কারণ, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা দলের অন্যতম পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিলেন, তিনি মোদীর সভায় থাকছেন না।
শুক্রবার সকালে নিজেই সংবাদমাধ্যমে এই খবর জানিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, ‘‘পার্টি আমাকে ডাকেনি। কর্মীরা অনুরোধ করেছিলেন বলে সম্মতি দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাচ্ছি না। হয়তো পার্টি চায় না আমি যাই। অস্বস্তি হবে।’’ তাঁর এমন মন্তব্যেই ফের চর্চার কেন্দ্রে চলে আসেন দিলীপ। তবে অবাক করা বিষয় হল, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার পোস্টার শেয়ার করেছেন। তাহলে সত্যিই কি আমন্ত্রণ পাননি, নাকি নিজের বার্তা দিতেই এমন বক্তব্য?
এই অবস্থায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানান, দিলীপদাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘দিলীপদাকে কেন্দ্র ডেকেছে, তিনি ব্যস্ত থাকার কারণেই সভায় থাকছেন না।’’ কিন্তু দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে কোনও ডাকই দেওয়া হয়নি। দু’জনের এই বিপরীতমুখী বক্তব্যে দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, এটা নিছক ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
মাত্র কয়েকদিন আগেই রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। বৈঠকের পরে জানিয়েছিলেন, ‘দলে থাকছি।’ সেসময় মনে করা হয়েছিল, বিজেপির অন্দরে দূরত্ব মিটে যাচ্ছে। কিন্তু এবার মোদীর জনসভায় এবং শমীকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষকে না ডাকা নতুন করে জল্পনা বাড়াল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাগুলি নিছক কাকতালীয় নয়।
আরও পড়ুনঃ Tanmay Bhattacharya : “সবটাই ফেক, বানানো!” আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর নেপথ্যে ‘প্রতারক’ অনিন্দ্য—বিস্ফোরক অভিযোগ তন্ময় ভট্টাচার্যের!
তৃণমূলের ‘২১ জুলাই’ শহিদ দিবসের মিটিংয়ের আগেই বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দিলীপ ঘোষ আদৌ উপেক্ষিত, নাকি কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁর জন্য অন্য কোনও ভূমিকা ঠিক করা হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অস্পষ্ট। তবে যাই হোক, এই অনুপস্থিতি দলীয় সম্পর্কের জলকে যে ফের ঘোলা করল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও দ্বিমত নেই।





