‘দল এখন গাড্ডায় পড়েছে’, বিস্ফোরক বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ

বিধানসভা থেকে পুরভোট, সব জায়গায় দলের ভরাডুবি, এর উপর দলের নানান নেতা-নেত্রীদের বিদ্রোহ, সব মিলিয়ে বিজেপি যে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সেকথা রাজ্য নেতৃত্ব মুখে স্বীকার না করলেও, এবার সেই দাবীতেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

গতকাল, মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন জয়প্রকাশ মজুমদার। জানুয়ারির শেষের দিক থেকেই দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিলেন জয়প্রকাশ। ২৫শে জানুয়ারি তাঁকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিজেপি। এরপর রার আক্রমণের সুর আরও ধারালো হয়। বিজেপির রাজ্য কমিটি, শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই ছিলেন তাঁর নিশানায়।

পুরভোটে বিজেপির ভরাডুবি নিয়েও দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। জল্পনা চলছিলই যে তিনি হয়ত তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সমস্ত জল্পনা সত্যি করে গতকাল, ৮ই মার্চ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

জয়প্রকাশ মজুমদার দলবদল করার পর আজ, বুধবার দিল্লি যান দিলীপ ঘোষ। এদিন দমদম বিমানবন্দরে বিস্ফোরক দাবী করেন তিনি। জয়প্রকাশ মজুমদারের দলবদল নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পার্টি এখন গাড্ডায় পড়ে গিয়েছে। সেজন্য যদি কেউ দল ছেড়ে চলে যায় তবে কিছু বলার নেই। আমরা পার্টিকে দাঁড় করিয়েছি। সব পার্টি, ব্যক্তির জীবনে এরকম আসে। আমরা লড়াই করছি। আবার পার্টিকে দাঁড় করাব”।

সদ্য দলত্যাগী নেতাকে কটাক্ষের শানিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বলেন, “ফুটবল ক্লাব বদলের মতো রাজনীতিতেও দলবদল চলছে। যে যেভাবে দল করে। কিছু লোক আসবে যাবে। এ নিয়ে কিছু বলার নেই। দলে কিছু পেশাদার লোক থাকে। তাঁরা যেখানে যায় সেখানে তেমন কথা বলে”।

তবে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে জয়প্রকাশ মজুমদার দল বদলানোর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার জয়প্রকাশ-সহ একাধিক বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা হুগলীর সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

এ নিয়েও এদিন কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “কোনও নেতা বা নেত্রী বা দল নাকি ব্যক্তিকে বিশ্বাস করবেন, তা তিনি নিজেই ঠিক করুন। কোনও বিষয়ে দ্বিমত হতেই পারে। সুবিচারের জায়গা অবশ্যই দলে আছে। অপেক্ষা করতে হবে”।

RELATED Articles