এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা দুর্গার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি।তা নিয়ে বিতর্ক হয় ঢের। সেই ঘটনা এখনও মুছে যায়নি কারোর মন থেকেই। এমন আবহে এবার ফের তুলনা এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তুলনা মা দুর্গার সঙ্গে। আর সেই তুলনা কোনও তৃণমূল নেতা করলেন না, করলেন জেলাশাসক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়াতে খুব একটা সময় লাগে নি।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
গতকাল, শুক্রবার বর্ধমানের স্পন্দন মাঠে জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসক বিধান রায়। এই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি বলেন, “আমরা সেই পথ পেরিয়ে এসেছি। কোন পথ? যেখানে মা, বোন, দিদিদের একত্রিত করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করতে হত। আমার যতদূর জানা আছে, পরিসংখ্যানের নিরিখে এখানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৭০ হাজারের মতো স্বনির্ভর দল গঠন হয়েছে। ৭ লক্ষ মানুষ কিন্তু এই স্বনির্ভর দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা কিন্তু আমাদের একটা শক্তি”।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নিয়ে কথা বলছিলেন জেলাশাসক। সেই সময়ই নারীশক্তির কথা উঠে আসে তাঁর মুখে। তিনি বলেন, “এটা নিছক একটা ভাবনা নয়, এটা আমাদের শক্তি।এই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি। এ বার এই আর্থিক বছরে, ২০২৩-২৪ সালে স্বনির্ভর দল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা ১৭০০”।
এখানেই শেষ নয়। জেলাশাসক আরও বলেন, “আমি একটা উদাহরণ দেব, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মহিলা। তিনি মা দুর্গার মতো সমস্ত দিকেই। আমি আপনাদের বলব, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, তিনি একজন, মা দুর্গার মতো কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন,তাহলে কেন পারবেন না? একটা জ্বলন্ত উদাহরণ আছে আপনাদের কাছে। আমি অনুরোধ করব, সেই উদাহরণকে সামনে রেখে আপনারা এগিয়ে চলুন”।
জেলাশাসকের মন্তব্যে প্রবল বিতর্ক
জেলাশাসকের মুখে এমন মন্তব্যের পরই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। সরকারি কর্মসূচিতে একজন জেলাশাসক কীভাবে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এটি কোনও দলীয় সভা নয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা হবে। সরকারি কর্মচারী হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর এমন স্তুতি বাক্য ভালো চোখে নেন নি বিরোধীরা।
কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?
জেলাশাসকের এহেন মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “আমরা বারংবার বলেছি যে,জেলায় জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তৃণমূলের দলীয় দলীয় নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করছে। সরকার এবং দলের মধ্যে কোন তফাৎ নেই।তাই একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে জেলাশাসক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্তুতি করবেন বাংলায় এটাই স্বাভাবিক”।
কী বলছে তৃণমূল?
যদিও জেলাশাসকের এই মন্তব্যে কোনও সমালোচনার আঁচ পাচ্ছেন না তৃণমূল নেতারা। রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাসের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব প্রকল্পের রূপায়ন করেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।সুতরাং জেলাশাসক নিজে কাজ করছেন। তাই তিনি বলেছেন। এটা নিয়ে বির্তকের কী আছে”?





