জেলাশাসকের কাজে সন্তুষ্ট নন মমতা! ফেসবুকে না ঘুরে এলাকায় ঘোরার পরামর্শ!

গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার খড়্গপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta Bandopadhyay)। সেখানেই পশ্চিম মেদিনীপুরের(West medinipur) পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে স্বভাবতই হাজির হয়েছিলেন জেলাশাসক রশ্মি কমল‌ও (Rashmi Kamal)।

সেখানেই যাবতীয় অভাব-অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনও পান থেকে চুন খসলেই জেলাশাসকের কাছে সেই কাজের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কিন্তু জেলাশাসকের কাজে যে তিনি সম্পূর্ণ ‘সন্তষ্ট’ হতে পারেননি, তা বিভিন্ন কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিদ্যাসাগর শিল্পতালুকে স্টেডিয়ামের মাঠে সেই বৈঠকে শবর প্রসঙ্গ উঠলে লোধা-শবর কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলাই নায়েককে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কী কী বিষয়ে বলার আছে তা জানতে চান তিনি। এক‌ই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারের প্রশংসা করেন সমিতির সভাপতি। তবে শেষে অনুযোগের সুরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাদের সব রেশন কার্ডগুলি অন্ত্যদয় ছিল। সেখানে আরকেএস-১ এবং আরকেএস-২ হয়ে গিয়েছে। সেজন্য তাঁরা সঠিকভাবে ৩৫ কেজি খাদ্য শস্য পাচ্ছেন না।’

বলাই জানান, দাঁতন ব্লকের প্রায ৩০ জনের আরকেএস-২ কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁরা খাদ্যশস্য পাননি। তবে বিষয়টি জেলাশাসকের কানে তুলতেই পরদিন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের আর্জিও জানান তিনি।লোধা-শবর কল্যাণ সমিতির সভাপতির সেই আর্জিতে কর্নপাত শুনে খাদ্য দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একইসঙ্গে হাসতে হাসতে জেলাশাসক কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ডিএম ম্যাডাম তো নিজেও ডাক্তার। আর ডিএম ম্যাডাম একটু ফেসবুক কম করে একটু ছোটাছুটি করতে করলে অনেক কাজ করতে পারে। মহিলা ভালো কাজ করতে পারে। তুমি আর একটু ভালো করে একটু এলাকায় এলাকায় ঘোরো।’ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সেই ‘পরামর্শ’-এ মাথা নেড়ে সম্মতি জানান জেলাশাসক।

RELATED Articles

Leave a Comment