রাজ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট! লোডশেডিংয়ের জেরে মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলেই প্রসব হল হাসপাতালে, ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনরা

গরম পড়ার পর থেকে রাজ্যে বিদ্যুতের সমস্যা বেড়েছে। মাঝে একটু কম হলেও এখন ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট রাজ্যের নানান জেলায়। লোডশেডিংয়ের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। আর এই লোডশেডিংয়ের জেরে সবথেকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে।

লোডশেডিংয়ের মধ্যে চিকিৎসার কাজ করতে গিয়ে বেজায় অসুবিধার মধ্যে পড়ছেন চিকিৎসকরা। কিছু হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও অনেক জায়গাতেই তেল ও অপারেটর না থাকার কারণে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে।

এই লোডশেডিংয়ের জেরে এক বেহাল দৃশ্য ধরা পড়ল পুরুলিয়ার বলরামপুরের বাঁশগড় হাসপাতালে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চিকিৎসায় খুবই সমস্যা হচ্ছে সেখানে। লোডশেডিংয়ের মধ্যে চিকিৎসকরা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে প্রসব করাচ্ছেন বলেও জানা গিয়েছে।

কী অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে?

এই বাঁশগড় হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর পরিজনরা। হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা। তাদের দাবী, মোবাইলের আলো জ্বেলে গর্ভবতী মহিলার প্রসব করাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে জেনারেটর নেই এমনকি শৌচালয়ের অবস্থাও খুব খারাপ বলে অভিযোগ তাদের।

রোগীর পরিজনরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বাঁশগড় হাসপাতাল লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো অন্ধকার হয়ে যায়। ৪ ঘণ্টা কারেন্ট ছিল না। সেই সময় মোবাইলের আলো জ্বেলেই এক গর্ভবতী মহিলার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান তারা।

কী জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য আধিকারিক?

এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কুনাল কান্তি দে বলেছেন, “বিষয়টি আমাদের গোচরে রয়েছে। জেনারেটর নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে তা ঠিকা প্রাপ্ত সংস্থার টাকা বকেয়া থাকার কারণে হচ্ছিল। এবার তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রোগীদের কোনো রকম অসুবিধায় না পড়তে হয়”।

RELATED Articles