আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই আন্দোলন শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। জরুরি বিভাগ ও আউটডোর ছাড়া নানান সরকারি হাসপাতালেই পরিষেবা বন্ধ। এর ফলে বেশ হয়রানির মুখেই পড়তে হচ্ছে রোগীদের। সামাল দিচ্ছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু কোনওভাবেই নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরতে চান না জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
গতকাল, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। এদিন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় চিকিৎসকদের অনুরোধ জানান যাতে তারা কাজে ফেরেন। আদালতের তরফে নিশ্চিত করা হয় যে তারা কাজে ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই আশ্বাসও চিকিৎসকদের কাজে ফেরাতে পারল না।
গতকালের সুপ্রিম নির্দেশের পর যদিও দিল্লি এইমস-সহ নানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা কাজে ফেরার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু বাংলার চিকিৎসকরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি ইতিবাচক হচ্ছে, ততদিন তারা কাজে যোগ দেবেন না। গতকাল রাতে অল ইন্ডিয়া রেসিডেন্টস অ্যান্ড জুনিয়র ডক্টরস জয়েন্ট অ্যাকশন ফোরামের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের আন্দোলন জারি থাকবে।
ডক্টরস ফ্রন্টের কথায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি-সহ রাজ্যের অনেক মামলার তদন্তই সিবিআই ক্রেচগে। কিন্তু বেশিরভাগ মামলাই অমীমাংসিত। এমনকি, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনাতেও সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি সন্তোষজনক নয় বলে দাবী চিকিৎসক সংগঠনের।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অভিযোগ, তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে সেই একজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনও গ্রেফতার নেই। চিকিৎসকদের দাবী, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত। পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভাত যাওয়ার পরও তদন্তের অগ্রগতি তেমন নেই বলেই দাবী তাদের।
আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবী, তাদের সহপাঠীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দিতে হবে। মৌখিক আশ্বাস নয়, কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তা যতদিন না হচ্ছে, ততদিন তাদের আন্দোলন জারি থাকবে।





