আর জি কর ঘটনার জের, সরকারের অনুদানের টাকায় পুজো নয়, সেই টাকাতে হবে পাড়ার মেয়েদের ক্যারাটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা! অভিনব সিদ্ধান্ত পুজো উদ্যোক্তাদের!

কাজ সেরে কর্মী মহিলা (Working woman) যখন বাড়ি ফিরবেন তখন কেউ লোভী দৃষ্টিতে তাকালে কীভাবে তার সাথে মোকাবিলা করবেন? কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন? এই কৌশল এবার শিখতে হবে কিশোরীদের। দুর্গা পুজোর (Durga Puja) ভাতা বাবদ রাজ্য সরকারের ৮৫ হাজার যে টাকা দেওয়া হয় সেখান থেকেই তাদের পেপার স্প্রে, নান চাকু, সেল্ফ ডিফেন্স স্টিক, জোরালো টর্চ কিনে দিয়ে স্বাবলম্বী বানানোর সিদ্ধান্ত নিল এক ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

আর জি কর কাণ্ডে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বারংবার প্রশ্ন উঠেছে। মেয়েরা কোথায় নিরাপদ জানতে চেয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকরা। তাই মেয়েদের আত্মরক্ষায় স্বাবলম্বী করে তুলতে পূর্ব কলকাতার ইস্ট বেলেঘাটা জনকল্যাণ সংঘের সদস্যরা এইরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা যেখানে পুজো প্রাঙ্গন করেছেন তার পাশেই মাঠ।

এই ক্লাব কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফি দিন সেখানে ক্রিকেট, ফুটবলের পাশাপাশি ক্যারাটে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, শেখানো হবে মেয়েদের সেই সমস্ত প্যাঁচ যার ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষিত করতে পারবেন।

এই প্রসঙ্গে ক্লাবের সদস্য দেবজ্যোতি গুহ বলেন, “মেয়েদের ক্যারাটের বিশেষ কলা কৌশলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নানচাকুর মতো ক্যারাটে প্রশিক্ষণের যন্ত্রপাতি দেওয়া হবে তাদের। ছোটো বয়স থেকে নান চাকু চালানো শিখে রাখলে আগামীতে তা কাজে আসবে”।

তারা জানিয়েছেন, পুজোর অনুদান দিয়েই তারা গড়বেন মেয়েদের রক্ষাকবচ, বাঁচাবেন বাস্তবের দুর্গাদের সম্মান। পাড়ার মেয়েদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণেই তাই দুর্গাপুজো বাবদ পাওয়া ভাতা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

ক্লাবের সদস্যরা জানিয়েছেন, “আমাদের ছোটখাটো ক্লাব প্রচুর অর্থ নেই, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর জন্য যে টাকা দিয়েছেন সেখান থেকেই মেয়েদের সাহায্য করা হবে”।

Puja committee,Durga Puja, Kolkata,পুজা কমিটি, দুর্গা পুজো,কলকাতা

কীভাবে এইসব কিছু করবেন তারা? এই প্রশ্ন উঠলে দেবজ্যোতি গুহ জানান, “পুজোর খরচ কিছু কমিয়ে এই ফান্ড থেকেই টাকা দিয়ে নানচাকু কেনা হবে মেয়েদের জন্য। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া কোন কিশোরী ক্যারাটে শিখতে ইচ্ছুক হলে সে ব্যবস্থাও করা হবে”।

আরও পড়ুনঃ আগেই উদ্ধার হয়েছিল মহিলার রক্তাক্ত দেহ, এবার সেই আনন্দপুরেই মিলল ওই মহিলার শিশুপুত্রের দেহও, কী চলছে রাজ্যে? 

এই উদ্যোগে শামিল হওয়া ক্লাবের অন্যান্য প্রবীণ মানুষদের বক্তব্য, অনেক মেয়েই রাতে কোচিং ক্লাস সেরে একা ফেরে। আচমকা কেউ রাস্তা আটকালে পেপার স্প্রে চোখে ছিটিয়ে দিলে হামলাকারীর চোখ জ্বালা করবে। এমন অস্ত্র সঙ্গে রাখলে হয়তো বেঁচে যেত আর জি করের মেয়েটিও …।

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

RELATED Articles