৮ই জুন অর্থাৎ গতকাল থেকে বাংলায় খুলে গেছে সমস্ত অফিস কাছারি। ১০০% উপস্থিতি নিয়ে চালু হয়েছে কলকাতা পুরসভাও। কিন্তু অফিস পৌঁছতে রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেতে হচ্ছে অফিস যাত্রীদের। মফঃস্বল থেকে কলকাতায় চাকরি করতে যাওয়ার ছবিটা তো আরও করুণ।
লোকাল ট্রেন না চলায় নানান ভোগান্তি সহ্য করে মধ্যবিত্ত বাঙালিকে বেরোতে হচ্ছে চাকরি অভিযানে। অবস্থাটা বিশেষ করে করুণ কলকাতার আশপাশ ও সংলগ্ন জেলা গুলোর। কারণ এখানে যাতায়াতের গোটা ব্যবস্থাটাই লোকাল ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই করোনা আবহে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংকে উপেক্ষা করেই গাদাগাদি করে বাসে চড়ে অফিস পৌঁছতে হচ্ছে সবাইকে। অনেকে ভাড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু অফিস পৌঁছতে দেরি হওয়ার আশঙ্কায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থাকছে। সাধারণ মানুষকে তাই সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, অফিসে পৌঁছতে একটু দেরি হলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। কিন্তু জীবনটার দাম অনেক বেশি।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে লকডাউন। ওদিকে রেলের তরফে জানানো হয়েছে সেদিন পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চলার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে অফিস যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করতে মাথা খাটাচ্ছেন অনেকেই। সমস্যার সমাধানে সাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সোমবার জানান মমতা। কলকাতায় কোন কোন রাস্তায় সাইকেল চালানোর অনুমতি দেওয়া যায় তা নিয়ে কলকাতা পুলিশকে ভাবতে বলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই পথ নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে করান মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বলেন, ‘জীবন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটু অফিসে যেতে দেরি হলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। কিন্তু একটাই জীবন তাই তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে যদি শেষ হয়ে যায়, জীবনটার দাম অনেক বেশি। সেই জন্য অ্যাক্সিডেন্ট যাতে না হয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে ফার্স্ট। তাড়াহুড়ো করা যাবে না।‘





