লক্ষ্য করলে দেখা যায় ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জীবন কিন্তু বেশ বৈচিত্র্যময়। একদিকে তিনি যেমন চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, তেমনি তিনিই আবার একজন ট্যাক্সিচালকও বটে। চিকিৎসক হন বা প্রশাসক, সব ক্ষেত্রেই তিনি কিংবদন্তি।
বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিন এক, আজ ১লা জুলাই, ১৮৮২ সালের এই দিনই পাটনার বাঁকিপুরে জন্মগ্রহণ করেন বিধানচন্দ্র রায়। শোনা যায়, ব্রাহ্মনেতা ও ‘নববিধান’ ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কেশবচন্দ্র সেন তাঁর নামকরণ করেন ‘বিধান’। ১৯৬২ সালের ১লা জুলাই-ই তাঁর মৃত্যুহয়।
মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে মতিলাল নেহরু, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল, কমলা নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, সকলেরই চিকিৎসা করেছেন বিধান রায়। ১৯১৩-১৯৪৮ সালের মধ্যে অন্তত ১৮ বার অনশন করেছেন মহাত্মা গান্ধী। এই প্রত্যেকবারই তাঁর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন ডঃ বিধানচন্দ্র রায়।
১৯১১ সালে তিনি ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিএস ও এমআরসিপি দিগ্রি অর্জন করে দেশে ফেরেন। এরপর কলকাতার ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুল বর্তমানে যার নাম নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, সেখানেই শিক্ষকতা ও চিকিৎসক হিসেবে নিজের জীবন শুরু করেন ডঃ বিধানচন্দ্র রায়।
১৯২৩ সালে তিনি দেশবন্ধুর কাছ থেকে রাজনৈতিক দীক্ষা পান। কিছুদিনের মধ্যেই হন আইনসভার সদস্য। সেই সময় মহাত্মা গান্ধীর ডাকে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। কারাবাসও করেছেন ১৯৩১ সালে। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁকে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল হওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গে আইনসভার সদস্যরা তাঁকে দলনেতা বলে নির্বাচিত করেন ও তিনি হন রাজ্যের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্বে তিনি ১৯৪৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন ও নিজের মৃত্যুকাল পর্যন্ত ১৪ বছর তিনি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।





