যখন সময় থমকে দাঁড়ায়… বর্তমান পরিস্থিতি এখন যেন একদম এই লাইনটার মতই। গোটা বিশ্ব আজ স্থবির। করোনার গ্রাসে হঠাৎ করে থমকে গেছে দুনিয়া। এই নিরাশার মেঘ কবে কাটবে তা যেন বুঝতে পারছি না কেউই। কিন্তু কালের নিয়মে আজ মহাষষ্ঠী। এই বছর দুর্গা পুজোতে এক অভিনব ভাবনা উপস্থাপন করছে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ, যার মূল বক্তব্য থমকে যাওয়া এই পৃথিবীকে ‘চলো পাল্টাই’!

শিল্পী পরিমল পালের প্রতিভায় এই থিম হয়ে উঠেছে জীবন্ত। শিল্পী ভাবছেন, নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মত আমরা যেভাবে পৃথিবীর উপর অত্যাচার করেছি পৃথিবী এখন করোনা রূপে সে সমপরিমাণ অত্যাচার আমাদের ওপর ফিরিয়ে দিচ্ছে। রঁদ্যার বিখ্যাত ভাস্কর্য ‘থিঙ্কার’কে মনে আছে? সে যেমন চিন্তিত ছিল সেরকম ভাবেই আজ গোটা বিশ্ব চিন্তিত নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। অদ্ভুত ধূসর সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা যেখানে ঘড়ির কাঁটা তো এগোচ্ছে কিন্তু আসল সময় যেন থমকে গিয়েছে। মানব সভ্যতাকে কেউ যেন পায়ে শিকল বেঁধে বসিয়ে দিয়েছে এক জায়গায়। কিন্তু এই শিকল ভাঙ্গার কাজ তো আমাদেরকেই করতে হবে। তার জন্য সদিচ্ছা, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্যোগের প্রয়োজন। সদিচ্ছা থাকলে আমরা ঠিক পারব এই ‘অচলায়তন’ ভেঙে বেরিয়ে আবার গতিময়তার জীবনে ফিরতে। পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দু’চোখে রেখে টান দেওয়া যাক আটকে রাখা এই সময়কে, আটকে থাকা সময়ের প্রতীক হিসাবে দেখা যাচ্ছে একটি থেমে যাওয়া ঘড়িকে। গোটা মন্ডপে রাখা হয়েছে রঙবেরঙের চাবি। এর মধ্যে যে কোনো একটি চাবি দিয়েই খুলবে শিকলের তালা।

সাথে যেসকল দর্শনার্থীরা এই মন্ডপের থিমের সঙ্গে একাত্মতা অনুধাবন করবেন তাদের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এই মন্ডপে। দেবীমূর্তির সামনে একটি বোতাম রয়েছে, সেখানে তারা চাপ দিলেই মন্ডপে থেমে থাকা ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে শুরু করবে।

মা এখানে শান্তিস্বরূপা হয়ে বিরাজ করছেন। তাই দমদম পার্ক তরুণ সংঘের এই বছরের পুজো হয়ে উঠেছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং অভিনব। যেখানে বলা হচ্ছে মানুষই পারবে এই শিকল ভাঙতে এবং নতুন দিনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আলোয় ভরা ভোর আনতে। তাই তো জীর্ণ এবং ভগ্ন এই পৃথিবীকে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ আহ্বান জানাচ্ছে, ‘চলো পাল্টাই’!
দেখে নিন দমদম পার্ক তরুণ সংঘ-এর এবারের পুজো ‘চলো পাল্টাই’






