রাঁচীর ব্যবসায়িক মহলে আজ সকাল থেকেই চাপা গুঞ্জন। শহরের একটি পরিচিত পরিবারের সদস্য হিসেবেই এতদিন যাঁকে জানা যেত, সেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নরেশ কুমার কেজরীওয়ালের নাম হঠাৎই উঠে এসেছে বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি এবং বিদেশে অর্থ সরানোর অভিযোগে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নড়াচড়ায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। কী ঘটছে, কার বাড়িতে তল্লাশি চলছে—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এদিন ভোর থেকেই ইডির পৃথক দল নরেশের রাঁচী, মুম্বই ও সুরতের বেশ কয়েকটি ঠিকানায় পৌঁছে যায়। আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয় এলাকাতেও। তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দেননি তাঁরা কোন কারণে তল্লাশি চালাচ্ছেন, তবে বিভিন্ন সূত্রে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে যে বিষয়টি শুধুই আয়বহির্ভূত সম্পত্তির নয়, তার চেয়েও বড় কিছু। ইতিমধ্যে নরেশের এক বাসস্থান থেকে বেশ কয়েক কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ইডি—যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেশের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল যে তিনি হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠাতেন। পরিবারের সদস্যদের নামে, আবার বেনামে—এমন অসংখ্য সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে ভারতের তিনটি প্রধান শহরে। শুধু দেশেই নয়, তদন্তকারীদের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আমেরিকা এবং নাইজেরিয়াতেও বেনামে সম্পত্তি পরিচালনা করতেন তিনি। বিদেশে তাঁর আর্থিক লেনদেনের অঙ্কও তদন্তকারীদের চমকে দিয়েছে—সম্প্রতি প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার লেনদেনের সূত্র মিলেছে বলেও দাবি তদন্তকারী মহলের।
আয়কর দফতরের হাতে থাকা অভিযোগপত্র থেকেই নরেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পরে মামলা পৌঁছোয় ইডির হাতে। আর সেই তদন্তে মিলছে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য। প্রাথমিক অনুমানেই দেখা গিয়েছে, নরেশ কুমার কেজরীওয়ালের নামে বা তাঁর পরিবার-ঘনিষ্ঠদের নামে কমবেশি ৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে—একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কীভাবে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হলেন? সম্পত্তির উৎস কী? কোন পথে অর্থ এসেছে?
আরও পড়ুনঃ PM Modi Concerns Over Khaleda Zia’s Health : “সহায়তার জন্য ভারত সবসময় প্রস্তুত”—খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা মোদীর বার্তা!
ইডির দাবি, বিদেশে থাকা সম্পত্তিগুলির বাজারদর নির্ধারণ এবং প্রকৃত মালিকানা যাচাই করতে তাঁরা নরেশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিতে চান। সেই দিকেই এগোচ্ছে তদন্ত। নরেশের বিরুদ্ধে গত এপ্রিলে মহারাষ্ট্রের নন্দুরবাড় থানাতেও মামলা দায়ের হয়েছিল। এখন দেশজুড়ে তাঁর বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির নথি—সবই খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, এই তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও বড় আর্থিক অসঙ্গতির তথ্য সামনে আসতে পারে।






