রাজ্যের বহু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। বিদ্যুৎকর্মীরা ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায় লাইন মেরামত করতে গিয়ে। প্রাণপণে কাজ করতে গিয়ে হারাচ্ছেন প্রাণ। এমনই মর্মান্তিক ঘটনা এবার ঘটল উত্তর ২৪ পরগণার বারাসতের নবপল্লি এলাকায়।
বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে মেরামতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক বিদ্যুৎকর্মী। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খুঁটির উপর থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। মৃত ওই ইলেকট্রিশিয়ান বছর পঁয়তাল্লিশের অমল দাস নবপল্লির বিদ্যাসাগর পল্লির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
আমফানের দাপটে উত্তর ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশ টানা ৬ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন। সংযোগের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল আমজনতা। এসবের মাঝে বিদ্যুৎ কর্তাদের আবেদন ছিল, এভাবে অবরোধ, বিক্ষোভ না করে তাঁদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হোক। পরিষেবা স্বাভাবিক করতে তাঁরাও কম চেষ্টা করছেন না। তা সত্ত্বেও বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। সোমবার বারাসতে অমলবাবুও সেভাবেই কাজ করছিলেন। তিনি বিদ্যুৎ দপ্তরের নিযুক্ত কর্মী নন। ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতেন। এদিন সকালে পিজি বাগানের নন্দনকানন লেনে কাজ করতে গিয়েছিলেন অমল দাস।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আমফানের পর উত্তর ২৪ পরগনার অন্যান্য জায়গার মতো বারাসতের বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কয়েকটি জায়গায় পরিষেবা ফের চালু হয়েছে ঠিকই। তবে তারপরও সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। নন্দনকানন লেনের এক বাড়িতে সোমবার তেমনই এক সমস্যা দেখা দেয়। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের খবর দেওয়া হলেও তাঁদের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ। তাই বাড়ির সদস্যরা পরিচিত ইলেকট্রিশিয়ান অমলবাবুকেই ডেকে পাঠান। তিনি এসে সমস্যার উৎস খুঁজতে বিদ্যুতের খুঁটিতে ওঠেন। তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,খুঁটির উপর হঠাৎ আগুনে ফুলকির মতো ঝলকানি দেখা যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে অমলবাবু মই থেকে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এমন ঘটনায় অমল দাসের পরিবার তো বটেই, শোকগ্রস্ত ওই বাড়ির সদস্যরাও। সমস্যার সমাধান করার জন্য পরিচিত ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে আনার পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যে ঘটবে তা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।





