রাজ্যের বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীর সম্পত্তি (property) অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নিয়ে তদন্ত করতে ইডি-কে (Enforcement Directorate) পার্টি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর নাম রয়েছে এই তালিকায়। এর মধ্যে তৃণমূলের (TMC) নেতা-মন্ত্রীই রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়দানে নামতে দেরি করেনি বিরোধী পক্ষ। সকলেই এই নিয়ে বেশ তোপ দেগেছে শাসক শিবিরকে।
এবার এই ঘটনা নিয়ে সরব হলেন শাসক দলের নেতারা। একদিকে, বিজেপির সুকান্ত মজুমদার যখন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন দাবী করছেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন যে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাংলার সরকার পড়ে যাবে, তখন এহেন পরিস্থিতিতে পাল্টা আক্রমণ শানালেন ফিরহাদ হাকিম-ব্রাত্য বসুরা। তাদের কথায়, বিরোধীরা একতরফাভাবে তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।
আজ, বুধবার তৃণমূলের তরফে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, “নির্বাচনী হলফনামায় আয়–ব্যয়ের সব হিসাব দিয়েছি। আয়কর দফতর কোনও পদক্ষেপ করেনি। রোজগার করা, সম্পত্তি বাড়ানো অন্যায় নয়। এটা জনস্বার্থ মামলা নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে করা মামলা। অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর সম্পত্তির পরিমাণ কত? বিজেপির বি–টিম হয়ে কংগ্রেস–সিপিআইএম আক্রমণ করছে। অর্ধেক তথ্য প্রকাশ করছেন কেন? পার্থ যা করেছেন, তাতে আমরা লজ্জিত। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, তৃণমূলের সবাই চোর”।
এদিন ব্রাত্য বসু বিধানসভা থেকে দাবী করেন, “নির্বাচনে হেরে গিয়ে কুৎসার রাজনীতি করছে বিরোধীরা। তার কুপ্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। সম্পত্তি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে অধীররঞ্জন চৌধুরী, সূর্যকান্ত মিশ্র, অশোক ভট্টাচার্য, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, আবু হেনা, ফণীভূষণ মাহাতো, ধীরেন বাগদি, রূপরানি মণ্ডল, তরুণকান্তি ঘোষ, চন্দন সাহা, নেপাল মাহাতো, মোহিত সেনগুপ্তর মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও। আমরা সিপিআইএম, কংগ্রেস বা অন্য দল নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। কুৎসার বিকল্প কুৎসা হতে পারে না। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেব। ২০২১ সালে জেতা বিজেপি প্রার্থীদের সম্পত্তির দিকেও নজর থাকবে”।
উল্লেখ্য, জনৈক মামলাকারী বিপ্লব কুমার চৌধুরী ও অনিন্দ্য সুন্দর দাস কলকাতা হাইকোর্টে নথি দিয়ে দেখান যে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৃণমূলের বেশ কিছু নেতাদের সম্পত্তি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে তাদের সম্পত্তির হলফনামা থেকে এই তথ্য মিলেছে।
দেখা গিয়েছে, শাসক দলের কোনও কোনও নেতার সম্পত্তি ২০১১ সালের পর থেকে বহুগুণ বেড়েছে। কারোর সম্পত্তি বেড়েছে এক হাজার গুণ পর্যন্তও। এই কারণে মামলাকারীরা আদালতে আবেদন জানান যাতে আদালত ইডিকে এই মামলায় যুক্ত করে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরই এই মামলায় ইডি-কে পার্টি করে কলকাতা হাইকোর্ট।





