মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিকে বুড়ো আঙুল! নিজের অবস্থানে অনড় রাজ্যপাল, মধ্যরাতেই ফের উপাচার্য নিয়োগ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই হুঁশিয়ারি শানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারিকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের একবার উপাচার্য নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এবার কৃষ্ণনগর কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে কাজল দে-কে নিয়োগ করলেন তিনি। এই নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাজ্য-রাজভবন সংঘাত

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। রাজ্যের পরামর্শ ছাড়াই একের পর এক উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল যা একেবারেই ভালোভাবে নেন নি মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল, মঙ্গলবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যপালকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি রাজ্যপালের নিয়োগ করা বিষয়ে উপাচার্যদের বেতন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তবে তা সত্ত্বের নিজের অবস্থানে অনড়ই রইলেন সি ভি আনন্দ বোস।

এর আগে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। এছাড়াও রাজভবন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, বাংলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যতদিন না পর্যন্ত উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে, ততদিন আচার্য তথা রাজ্যপালই সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়েও শুরু হয়েছিল বিতর্ক।

এবার কৃষ্ণনগর কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল। প্রথমে এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বেশ খোঁজখবর নেন রাজ্যপাল। তারপরই ডায়মন্ড হারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজল দে-কে সেখানকার অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করেন তিন।

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সংঘাত পরিস্থিতিতেই আগামী ৮ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠক ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। রাজ্যের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারদের সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এবার এটাই দেখার যে সেই বৈঠকে কী স্থির হয়।

আরও অন্যান্য খবর