মালদা হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায় দুষ্কৃতী আক্রমণ, ভাঙচুর করে লুঠ করা হল মন্দিরও

এবার করোনা সংক্রমনের নির্দেশিকা মেনে চলার শাস্তি পেলেন এক ডাক্তার। করোনা রুখতে দেশজুড়ে জমায়েতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এবার এই জমায়েত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুস্কৃতিদের কবলে পড়লেন এক হাতুড়ে চিকিত্‍সক। তার বাড়ি ভাঙ্গচুর করে লুটপাট চালাল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটতে দেখে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে এসে আরো তিনজন প্রতিবেশী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি এলাকার একটি মন্দিরে প্রণামী বাক্স থেকে কয়েক হাজার টাকা এবং দেবীমুর্তির অলংকারও লুট করে দুষ্কৃতীরা।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গতকাল রাত থেকেই ওই এলাকার দুটি গ্রামে পুলিশি প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই ওই এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। ইতিমধ্যেই ব্যারিকেড করা নিয়েও গ্রামবাসীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রবিবার সন্ধের পর আচমকাই মাঠে লোকজন জমা হতে শুরু করেন। তারপর হ্যান্ডেল থেকে এলাকার বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপরই ঘটে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ। ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় তারা। প্রথমে একটি দোকানে ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তারপর লাগোয়া মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি ভাঙচুর চলে।

মন্দিরের অলঙ্কার সহ দানবাক্সে থাকা প্রণামীর ৩৫ হাজার টাকাও লুঠ করে বলে অভিযোগ। এরপর বাড়ি লক্ষ করে ইট বর্ষণ করতে থাকে সবাই। আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে ফেরেন। পুলিশ হুমকি দিয়ে ভাঙা মূর্তি বেদিতে তুলে দেয় বলেও অভিযোগ। রাতেই পুরো ঘটনাটি সোশ্যাল-মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। তিনি তাঁর টুইটে রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে লেখেন যে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার চন্ডিপুরের ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। সকলকে প্রতিহত করা উচিত। পুলিশ প্রশাসন কোনো রাজনীতির মধ্যে না গিয়ে নিজেদের পারদর্শীতায় কাজ করুক। পাশাপাশি এইব্যাপারে সমস্ত সম্প্রদায়ের নেতাদের একসাথে এলাকার শান্তি স্থাপনের ব্যবস্থা করা উচিত।

RELATED Articles

Leave a Comment