করোনা আবহেই ফের মমতা সরকারের ওপর সিবিআই নিজের আক্রমণ শানিয়েছে। বিগত সোমবারই নারদ কান্ডে গ্রেফতার হন রাজ্যের দুই মন্ত্রী, এক বিধায়ক সহ চারজন।
এই ঘটনার পরই সিবিআই দফতরে ধর্নায় বসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজাম প্যালেসের সামনে আছড়ে পড়ে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ।
করোনার ভয়াবহতার মাঝে সিবিআই-এর এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসম্পন্ন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে বিভিন্ন মহলে।বিজেপি নিজের রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠতে থাকে তৃণমূলের তরফে।
এই বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে রাজভবনের ওপরও। প্রসঙ্গত শুরুর দিন থেকেই বিজেপির পক্ষে মুখ খোলায় রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বিজেপি শিবিরের মানুষ হিসেবেই গণ্য হন রাজ্যে।
আর তাই তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের পর তৃণমূলী বিক্ষোভের আঁচ দেখা গিয়েছিল রাজভবনের সামনেও। আর এবার তা নিয়েই সরব হলেন জগদীপ ধনখড়। টুইটারে নিজের বক্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে কলকাতা পুলিশ কমিশনার এর কাছ থেকে গোটা ঘটনার রিপোর্টও তলব করেছেন রাজ্যপাল।
এদিনের টুইটে জগদীপ ধনখড় উল্লেখ করেছেন, রাজভবনের নর্থ গেটের সামনে সেই দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল। পুলিশের সামনেই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। কলকাতা পুলিশের সামনেই ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলে এই লুম্পনেদের তথাকথিত প্রতিবাদ। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে নানা ধরণের স্লোগান তোলেন, যেটা যথেষ্ট মর্যাদাহানিকর। দীর্ঘক্ষণ তারা নর্থ গেটটিকে আটকে রাখে। রাজভবনের মতো হাই সিকিউরিটি জোনে এই ঘটনায় রাজ্যপাল ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারত। এই ঘটনার সময় পদস্থ পুলিশ কর্তারা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। রাজভবনের চারপাশ ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও এইভাবে জমায়েত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কলকাতা পুলিশ কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোমবারের পর মঙ্গলবার সিবিআই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ভেড়ার পাল নিয়ে সিটিজেন্স এগেন্সট ডার্টি পলিটিক্স অ্যান্ড কোরাপশন সংগঠনের আওতায় রয়েছেন বলে দাবি করা এক যুবক রাজভবনের সামনে প্রতিবাদ দেখাতে আসেন। পরে পুলিশ তাকে সরিয়ে দেয়।
গতকালের ঘটনার উল্লেখ করে এদিন রাজ্যপাল দাবি করেন সোমবারের ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি পুলিশ। মঙ্গলবার হাফ ডজন ভেড়া নিয়ে এক ব্যক্তি নর্থ গেটের সামনেটা আটকে দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ছবির জন্য পোজ দিতে শুরু করেন। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে এই নাটক দেখল। কী তার পরিচয়, তার হাতে অস্ত্র ছিল কিনা, কোনও ক্ষতি করতে সে এসেছিল কিনা সেটা না দেখেই ওই ব্যক্তিকে জায়গা থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হল।
এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে দুটি ঘটনারই বিস্তারিত রিপোর্ট ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কী কী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।





