বাংলা এখন গনতন্ত্রের লজ্জা! মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা বঙ্গ সংস্কৃতির পরিপন্থী, টুইটে মমতাকে ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য প্রত্যাহারের নির্দেশ রাজ্যপালের

গতকালই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাকে নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলা। তৃণমূলীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল নাড্ডার সফরের শেষ দিনে ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। আমতলা থেকে শিরাকোল পর্যন্ত রাস্তায় দফায় দফায় বাধার মুখে পড়ে কনভয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পাথর ছোড়া হয় কৈলাস বিজয়বর্গীয়র গাড়িতে। সরিষার কাছে ভাঙচুর চলে যাত্রীবাসেও। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের অনুগামীদের মোটরবাইক বাহিনী অবরোধের মধ্যে পড়ে। অভিযোগ, উঠেছে ওই পরিস্থিতিতে রাকেশ সিংহের দলবলের উপর হামলা হয়।
ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে নাড্ডা বলেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা আমাকে আটকানোর চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখেনি। মা দুর্গার দয়ায় এখানে এসে পৌঁছতে পেরেছি।’
বিজেপি যথারীতি অভিযোগ তৃণমূলের ঘাড়ে চাপালেও শাসক শিবির অস্বীকার করে জানায়  এই পুরো হামলা নাকি বিজেপির সাজানো। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী নিজের ‘সাজানো তত্ত্ব’কেই প্রতিষ্ঠা করতে চান।
নাড্ডার আক্রমণের প্রসঙ্গে শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
‘নাড্ডা, ফাড্ডা, চাড্ডা প্রতিদিন আসছে। মুখ্যমন্ত্রী আসছে, হোম মিনিস্টার আসছে। নিজেরা ন্যাশনাল টিভিতে পাবলিসিটি পেতে এসব করছে। ১ জনের সঙ্গে কেন‌ও ৫০টা গাড়ি যাবে। কী করে ভিডিও তুললেন? একটা টেল কারের পিছনে ঢিল মেরেছে। তোমরা প্ল্যান করে করেছ। যেভাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্ল্যান করে ভেঙেছিলে। আমি পুলিশকে বলেছি তদন্ত করতে।’
আর মমতার এহেন বক্তব্যের পরই, মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের ভাষা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ‘মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে এই মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। এই ধরনের মন্তব্য বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী,’ ট্যুইট করেন তিনি।
তবে নাড্ডাকে এই টুকু আক্রমণ করেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি-কে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, ‘বিজেপি বাংলার রাজনৈতিক দল নয়। বিজেপি দিল্লি এবং গুজরাতের দল। গ্রামে বাইরের কাউকে দেখলেই থানায় জানান। বিজেপি বলছে বাংলায় আইনশৃঙ্খলা নেই। কলকাতা সবথেকে সুরক্ষিত শহর। রবীন্দ্রনাথের জন্ম নিয়েও মিথ্যে বলছেন বিজেপি নেতারা। বিরসা মুণ্ডা নিয়েও মিথ্যাচার করেছে বিজেপি। বিদ্বজ্জনরা প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ করুন। বাংলায় সব উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কোথাও কোনও অশান্তি হয়নি, শুধু মিথ্যে বলছে বিজেপি। ভাষণ দিতে দিতে বিজেপি দলটাই হারিয়ে যাবে।’

RELATED Articles