ভাটপাড়া আর গুলিগালা-বোমাবাজি যেন একে অপরের পরিপূরক। বিজেপির ডাকা বাংলা বন্ধের সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে এই এলাকা। এক বিজেপি নেতার গারিলক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি করার অভিযোগ উঠল এবার। এই ঘটনায় ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং আঙুল তুললেন তৃণমূলের দিকেই। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি।
গতকাল, মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের মিছিলের উপর পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ, বুধবার ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এদিন সকাল থেকেই নানান জায়গায় চলছে বিক্ষোভ। বন্ধকে সফল করতে রাস্তায় নেমেছে বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে ভাটপাড়া থেকে এল গুলিগালার অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ভাটপাড়ার ঘোষপাড়া মোড়ের কাছে বিজেপি নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। অন্তত সাত রাউন্ড গুলি করা হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দু’জন বিজেপি নেতা ছাড়াও জখম এক গাড়ির চালক। গাড়ির চালকের কানের পাশ দিয়ে গুলি চলে গিয়েছে বলে খবর। বিজেপি নেতাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন। তাঁকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তোলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তাঁর দাবী, সোমনাথ শ্যাম ও তরুণ সাউয়ের নির্দেশেই এই গুলি চালানো হয়েছে। তৃণমূল বোমা-গুলি জোগাড় করে রেখে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবী বিজেপি নেতার। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এই দায় অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবী, মানুষ বিজেপির পাশে নেই। সেই কারণেই অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যান অর্জুন সিং। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি। ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয় বিজেপি কর্মী ও পুলিশের মধ্যে। অর্জুন সিংকে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে পুলিশ। নামানো হয় র্যাফ। অন্যদিকে আবার অর্জুন সিংকে উদ্ধার করে সিআইএসএফ জওয়ানরা। গোটা এলাকাজুড়ে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, এদিন বন্ধকে কেন্দ্র করে নানান জায়গায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা। কোথাও ট্রেন অবরোধ করা হচ্ছে, তো কোথাও আবার রাস্তায় বসে বিক্ষোভ। বন্ধকে সফল করতে যখন সচেষ্ট বিজেপি নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের তরফে বন্ধকে ব্যর্থ করার চেষ্টাও চলছে। ভাটপাড়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি।





