আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। এই ঘটনায় হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। চলছে আন্দোলন-প্রতিবাদ। এবার এক শৌচাগার থেকে উদ্ধার হল এক নার্সের ঝুলন্ত দেহ। দেহটি লোপাট করার চেষ্টার অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উঠে আসছে খুনের তত্ত্বও।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালের আবাসনে। মৃত ওই নার্সের নাম অর্চনা থাপা। তিনি দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ি শহরের বর্ধমান রোডের এক নার্সিং হোমে কর্মরত ছিলেন তিনি। শহরের মিলনপল্লির এক আবাসনে ওই নার্সিং হোমের কর্মীদের সঙ্গেই থাকতেন ওই নার্স।
স্থানীয়দের দাবী, এই আবাসনকে ঘিরে নানান অভিযোগ রয়েছেআগের থেকেই। এই আবাসনে অচেনা ব্যক্তির আনাগোনা লেগেই থাকে। তারা এই নিয়ে আগে বারবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাতে কোনও আমল দেওয়া হয়নি। তারা জানান, গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎই আবাসনের নার্সদের বেরিয়ে যেতে দেখেন তারা। এরপর সেখানে এক অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রায় ২৫ জন যুবক আসে।
আবাসনের সামনে শোরগোল শুনেই স্থানীয়রা পৌঁছন সেখানে। তারা জানতে পারে যে এক নার্স আত্মঘাতী হয়েছে। আর তাঁর দেহই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তা জেনেই বাধা দেন স্থানীয়রা। খবর দেন পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে আবাসনের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারের শাওয়ারের পাইপ থেকে ঝুলছে নার্সের দেহ।
স্থানীয়দের দাবী, নার্সের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। তারা এও দাবী করেন যে ওই নার্সকে খুনে করে অভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও দেহ লোপাট করার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের পাঠায়। এই ঘটনায় প্রবল শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ ‘হাতে-পায়ে ধরে টাটাকে ফেরাব…’, সিঙ্গুরে গিয়ে দাবী শুভেন্দুর, সিঙ্গুর আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই কী আরও একবার পরিবর্তন আসবে বাংলায়?
এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় কাউন্সিলর। তাঁর কথায়, “এখানে মৃতদেহ লোপাট করার চেষ্টা চলছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় রোখা গিয়েছে। পুলিশকে না জানিয়ে দেহ কেন নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন”।





